অকৃত পক্ষে এক হারিয়ে যাওয়া যুগের কাহিনি ‘হারানো ঠিকানা’। এক বালিকার চোখে দেখা হয়েছে অতীতের সেই বিস্মৃত সময়কাল। যাঁরা মিডনাইটস্চিলড্রেন অর্থাৎ জন্মেছেন স্বাধীনতার লগ্নে অথবা তার কিছুদিন পরে, তাদের অভিজ্ঞতায় নেই পরাধীনতার গ্লানি। তাই স্বাধীনতার সঠিক স্বাদ উপলব্ধি করা কঠিন। সেই মধ্য রাতে যখন ভারতীয় জাতি ভাগ্যের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক অভিসারে চলেছে তখন লেখিকা বাল্যকাল অতিক্রম করে পা রেখেছেন যৌবনে। ঘটনাচক্রে প্রথম স্বাধীনতার দিনটি তিনি দেখেছেন দেশের রাজধানী দিল্লিতে। স্বাধীনতার আনন্দের সঙ্গে মিশে গিয়েছে দেশভাগের নির্মম বেদনা। শহর কলকাতার ছবি পালটে যাচ্ছে এক সাধারণ মেয়ের বড় হয়ে ওঠার আপাত তুচ্ছ দিনযাপনের সঙ্গে, অলক্ষ্যে এক জাতির ইতিহাসও এগিয়ে চলেছে আপন বেগে। ইংরেজ রাজত্বের চৌরঙ্গি, শহরতলি বিস্তৃত হচ্ছে দক্ষিণে, ডোভার লেনে শোনা যায় শেয়ালের ডাক। দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা-হাঙ্গামার মধ্যে রাসবিহারী অ্যাভিনিউর চারপাশে কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ মিলে গড়ে তুলছেন সাংস্কৃতিক পরিবেশ। দুটি সময়কালের স্তরে স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেন লেখিকা। নিতান্ত বাল্যকালে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন দেখেছেন, আবার পরিণত বয়সে সিঙ্গাপুরে সেই সময়ে কী ঘটেছিল শুনেছেন জেনারেল ফুজিয়ারার কাছে। লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ ফৌজের বিচারের সময়ে সারা দেশে উন্মাদনা। ইতিহাস সৃষ্টিকারী সেইসব সৈনিকদের দেখবেন বলে ছুটেছেন কলকাতার পার্কে, ময়দানে। বহুদিন বাদে আবার তারা নিতান্ত আপনজন, তখন তাদের মুখেই শুনেছেন সেসব দিনের কথা। লেখিকার হাত ধরে এমনি অনেক হারানো ঠিকানায় আমরাও ঢুকে পড়ি।