আত্মজীবনী লিখতে চাননি সুচিত্রা সেন। তাঁর কথা কেউ কখনও যেন জানতে না পারেন, এমন বিধানই দিয়েছিলেন তিনি। ‘মহানায়িকা’র নিকটজনেরা আজও ‘রমা’র প্রসঙ্গে মুখ খোলেন নিক্তি মেপে। কিন্তু তাই বলেকি ‘সুচিত্রা’র আড়াল সরিয়ে কখনও উঠে আসেনি রক্ত-মাংসের ‘রমা’? বাঙালি জীবনের এতবড়মাপের একজন আইকনকে সঠিকভাবে চেনা বা বোঝার জন্য যতটুকু তথ্যের দরকার, এই বারণের কারণে তা লভ্য নয়, এখনও। ফলে তাঁকে ঘিরে ক্রমশ গাঢ় হয়েছে রহস্য। আনন্দলোক-এর পাতায় বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে ‘মহানায়িকা’-র জীবনের নানা অজানা কথা। কখনও কখনও পরিচিতদের মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে ‘রমা’, ‘রমামাসি’, ‘রাঙাদি’ কিংবা ‘কৃষ্ণা’র জীবন কথা... যা সংকলিত হল ‘সম্পূর্ণ সুচিত্রা’য়। ‘সপ্তপদী’ ছবিতে রিনা ব্রাউনের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ও আমাকে টাচ করবে না!’ তখন হয়ত জানতেনও না, সেই সামান্য সংলাপ পরবর্তীকালে তাঁর জীবনের এক অমোঘ সত্য হয়ে উঠবে! আর তাই, কেউ ছুঁতে পারল না তাঁকে ! শেষ দেখাও দেখতে পেল না। ঠিক যেমনটা তিনি চেয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে ‘প্রণয়পাশা’ ছবিতে শেষবারের মতো অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল সুচিত্রা সেনকে। তারপর থেকে যতই তিনি নিজেকে আড়াল করতে চেয়েছেন, ততই যেন সকলের গোচরে এসে দাঁড়িয়েছেন ! নিজের অবচেতনেই তৈরি করেছেন একের পর এক লোকগাথা। মহানায়িকার সেই সব বর্ণময় ‘রূপকথা’ সংকলিত হল‘সম্পূর্ণ সুচিত্রা’য়।