ক্ষণজন্মা মনীষা ওমর খৈয়াম, বিশ্বাসের বৃত্তে সর্বাংশে স্বাধীন কালজয়ী পঙতি রচনা করেছিলেন। সেই চিরকালীন শব্দবদ্ধ, এই মুষলকালে মাসুদের সংবেদী হৃদয়ে অভিঘাত করেই যাচ্ছে। ভাবতাড়িত মাসুদ খেই খুঁজে পেয়েছেন খৈয়ামের পরম্পরায়। মাসুদের বোধের উচ্চতা ও প্রমত্তা রুচিকে উসকে দিয়েছে সমসাময়িক পতনশীল ঘটনাপ্রবাহ। তিনি খৈয়ামের সুরভীতেই তার নিজস্ব যন্ত্রণায় উপগত হয়েছেন। ছোট কথার মধ্যেই বড় কথা মৌলিক চেতনায় তরঙ্গায়িত হয়েছে। একটি নতুন বুননশৈলী ঝিকিয়ে উঠেছে প্রতি ছত্রে। তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের ঐতিহ্য সংযোগ করে চিন্তাসূত্রকে প্রতিস্থাপিত করেছেন দক্ষতা ও নৈপুণ্যে। সাকুল্যে ১০০টি চার লাইনের পদ লিখে প্রকাশের মুন্সিয়ানায় মাসুদ প্রতিটি ছত্র সফল করেছেন। খৈয়াম যে বেদনা তার শায়রে বয়ে বেড়িয়েছেন তার প্রায় একই রূপ বেদনার বেনোজলে মাসুদও ভেসে গেছেন। তরতাজা জীবন বীক্ষণ করতে গিয়ে মাসুদ জীবনের সত্যপঞ্জী প্রকাশ করেছেন। চিন্তার স্বাতন্ত্র্য ও সরলতা এক রেখায় মিলে গেছে। সৃষ্টিসত্তার পারঙ্গমতায় তিনি সাহিত্যপ্রেমীদের অভিনব কিছু দিয়েছেন নিঃসন্দেহে।