‘মৎস্য বিনে ভোজনের কভু নাঞি সুখ’—সেই কবে বলেছিলেন বাঙালী কবি। যুগ পালটেছে, পালটায়নি বাঙালীর ভোজনের সুখের স্বরূপ। আজও যে-কোনও মাছ—তা সে চুনো হোক কি কুচো, পাকা হোক কি চারা—বাঙালীর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরমপ্রিয় উপাদান। এককালে যে-সব মাছ ঢুকত না বাঙালী হেঁশেলে, কালগতিকে তারাও দিব্যি ঠাঁই করে নিয়েছে বাজারের থলিতে। কিন্তু থলিতে ঢুকলেই তো হল না, মাছের আসল স্বাদ রান্নায়। একমাত্র রান্নার গুণেই চিতল-পেটিকে টক্কর দিতে পারে মুঠির ডালনা, রুই-ভেটকি-ইলিশের পাশে দাপটে দাঁড়াতে পারে পমফ্রেট। কিন্তু এ-যুগে সেরকম মাছরান্না শেখার সুযোগ কই? সেই সুযোগই করে দিলেন সাধনা মুখোপাধ্যায়। দশটি অধ্যায়ে সুবিন্যস্ত এই বইতে প্রায় ১৬০ রকম মাছরান্না শিখিয়েছেন তিনি। মাছ নিয়ে যত রকমারি, লাউঘণ্ট থেকে মুড়িঘণ্ট, চীনে থেকে জাপানী, মালয়েশিয়া থেকে গোয়ানিজ, পাঞ্জাবী থেকে নেপালী, কোর্মা-কালিয়া থেকে পোলাও-বিরিয়ানি, জলখাবার থেকে শুক্তো-পাতুরি—সবই এই বইতে।