ভয়ের গল্পের রচয়িতা হওয়ার চেয়েও উপদেষ্টা হওয়ার তাৎপর্যটি অনেকাংশেই দুর্মূল্য। অভিজ্ঞতাগুলো যখন সারি বেয়ে একে একে মস্তিষ্কের গহ্বরে এসে ভিড় করতে থাকে তখন লেখক ও পাঠকের সমীকরণের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে প্রতিটি শব্দের অন্তঃকরণের বিশিষ্টতা। ভৌতিক গল্প লেখার শখ যখন সেসব বাধা অতিক্রম করে পাঠক-পাঠিকার অন্তরমনকে স্পর্শ করতে পারে তখন সেই লেখনী নিজস্বতা পায়। পায় ভালোবাসা। এমনকি সেই লেখনী পাঠকমনের গহিনে চিরতরে হৃদয়ঙ্গমের ক্ষমতাও অর্জন করে। বইটিতে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের দশটি ভৌতিক গল্পের ভান্ডার প্রস্তুত করেছেন লেখক। যেখানে সংঘবদ্ধভাবে রয়েছে তাদের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য। একের পর এক ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে প্রতীয়মান প্রতিটি অধ্যায়। অন্তরে লুকিয়ে থাকা সত্য পাঠকের মনকে আন্দোলিত করতে সক্ষম বলে বিশ্বাস করেন তিনি। বইটির মধ্যে এমন কিছু ভয়ের রসদ খুঁজে বার করার চেষ্টা করেছেন, যাতে পাঠককুল নতুন অভিধায় ভৌতিক গল্পের রসাস্বাদনে উদগ্রীব হন। এই গল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে একাধিক ভয়ের প্রভাব, তবে সেই প্রভাবের দ্বারা প্রভাবিত না হয়েও পাঠক কীভাবে নিজের চিন্তাশক্তির জয় ঘোষণা করতে পারেন তার একটি সুযোগ্য পথ প্রসারিত রয়েছে। গল্পের প্রারম্ভ থেকে অন্তিম সারণি পর্যন্ত একাধিকবার চমকে ওঠার এমন অনেক কারণ নিহিত রয়েছে। কিন্তু শেষপর্যন্ত লেখনীর দ্বারাই যে সেই মনোভাব বদলাতে আমি সক্ষম, এমনটিও লেখকের বিশ্বাস। ভয় আর আতঙ্কের মধ্যেকার তফাতকে নতুন রূপ, রস, গন্ধ এবং বর্ণের দ্বারা পরিবেশিত করবার চেষ্টা এই বই।