রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি ও মননের আলোচনা ছিল প্রবোধচন্দ্র সেনের আজীবনের সাধনা। এই সাধনা তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন ঐতিহাসিকের দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে। সাহিত্যবোধ এবং ইতিহাসবোধের এমন সুষ্ঠু সমন্বয় রবীন্দ্রসাহিত্য আলোচনায় খুবই কম দেখা যায়। প্রবোধচন্দ্র মুখ্যত ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিত ও ক্রম রক্ষা করে রবীন্দ্রসৃষ্টির পাঠনির্ভর ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর আলোচনা মূলত রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ও ধর্মচিন্তা, স্বদেশভাবনা এবং ছন্দ আর কবির বাল্যরচনাকে ঘিরে। এ সম্পর্কে তাঁর বইগুলি পাঠক সমাজে সুপরিচিত হলেও, এখনও ওই বিষয়ে লেখা বহু প্রবন্ধ গ্রন্থবদ্ধ হয়নি। প্রবোধচন্দ্রের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত এই গ্রন্থে সেই রকম কিছু প্রবন্ধ সংকলিত হল। এই সংকলনের প্রতিটি প্রবন্ধ কেবল তথ্যাশ্রয়ী ও বিশ্লেষণধর্মী নয়, রবীন্দ্রচর্চার ক্ষেত্রে এদের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষত রবীন্দ্রসাহিত্য পর্যালোচকদের কাছে জরুরি বলে বিবেচিত হবে। কবি বিহারীলালকে রবীন্দ্রনাথ ‘ভোরের পাখি’ আখ্যা দিয়েছিলেন। প্রবোধচন্দ্র দেখিয়েছেন ‘সব যথার্থ কবিরাই ভোরের পাখি’। তাঁর অভিমত : ‘আমাদের দেশে রবীন্দ্রনাথ এই ভোরের পাখিদের মধ্যে সবাগ্রগণ্য পাপিয়া। তাঁর কণ্ঠে অনাগতের আগমনী ধ্বনিত হয়েছে বারেবারেই।’ এই গ্রন্থে সংগৃহীত প্রবন্ধগুলি সেই চিরন্তন রবীন্দ্রবাণীর অভিনব বাহক।