‘যে পারে সে আপনি পারে, পারে সে ফুল ফোটাতে’ কবি রবির এই কথা ব্যঞ্জনায় অসামান্য সন্দেহ নেই, কিন্তু নিতান্ত বাচ্যার্থে একে গ্রহণ করা যে তত সহজ নয়, তা শুধু তাঁরাই জানেন, ফুল ফোটানোর কাজ যাঁরা হাতেনাতে করেন। আবার এও সত্যি যে, খুব ছোট্ট জায়গায়— এমনকি ফ্ল্যাটবাড়ির একফালি ঝুলবারান্দার টবেও— অনেকে এমন সুন্দর বর্ণময় সতেজ বাহারি ফুলের মেলা বসিয়ে দেন যার থেকে চোখ ফেরানো সহজ নয়। তখনই আবার কবিকথার অনুরণন জাগে। আসলে ফুলের বাগান তো শুধু এলোমেলো ভাবে ফুলগাছের চাষ নয়, এর পেছনে থাকে পরিকল্পনার পারিপাট্য, বিন্যাসের শৃঙ্খলা, রুচিবোধের সূক্ষ্মতা, পরিচর্যার কুশলতা, প্রয়োগবিধির বাস্তবজ্ঞান, নিত্য পরীক্ষা নিরীক্ষার উৎসাহ এবং এমনতর বহু কিছু। ফুলের বাগান যিনি করবেন তাঁকে শুধু সৌন্দর্যপিপাসু হলেই চলবে না, একই সঙ্গে হতে হবে বিজ্ঞানজিজ্ঞাসুও। ফুল ফোটানোর কাজে যাতে উৎসাহী করে তোলা যায় ছেলেমেয়েদের, যাতে তারা জেনে যায় ফুলের বাগান তৈরির নানা খুঁটিনাটি, প্ররোচিত হয় ফুল ফোটানোর বহু ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষায়, এসব দিকে লক্ষ্য রেখেই রচিত হয়েছে এই বইটি, এই ‘ফুল ফোটানোর সহজপাঠ’। এর লেখক ভিক্ষু বুদ্ধদেব নিজেও পুষ্পচর্চায় আকৃষ্ট নিতান্ত বাল্যবয়স থেকে। সর্বোচ্চ মানের শৌখিন পুষ্পচচার বিপুল অভিজ্ঞতার অধিকারী এই লেখক, এই অভিজ্ঞতা একটি আলাদা পরিপূর্ণতা এনে দিয়েছে এই বইটির।