পোশাকি ভাষায় ফ্রান্স। আমরা বলি ফরাসি দেশ। এই দেশের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক অনেক দিনের। এ দেশ সম্পর্কে আমাদের কৌতূহল এবং আগ্রহের আজও শেষ নেই। এমন রোমান্টিক দেশ সারা পৃথিবীতে আর দুটি নেই। আর প্যারিস বা পারি? এই শহরটা তো শুধু ফ্রান্সের রাজধানী নয়, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, বিলাস, ফ্যাশন, রুচি, স্বাধীনতা, বিপ্লব প্রভৃতি অনেক কিছুরই রাজধানী। শহরের স্তর ছাড়িয়ে মিথের বিভায় মণ্ডিত। কল্পনা ও বাস্তব এক সঙ্গে জড়ানো। পারি এবং পুরো ফরাসি দেশটাই ইতিহাসের জাদুঘর। কিন্তু শিলীভূত নয়। ইতিহাসের শ্বাস-প্রশ্বাসে স্পন্দিত পারি, সমগ্র ফরাসি দেশ ইতিহাস সৃষ্টি করে ইতিহাসে মিশে যায়। রাজপথের প্রাচীন ইতিহাস আজকের দিনের প্রাত্যহিক ইতিহাসের সঙ্গে মেশে, মিছিলে, মেলায়, উৎসবে, শোভাযাত্রায়। এই গ্রন্থের লেখিকা বসবাসের সূত্রে দু’ যুগেরও বেশি সময় ধরে ফরাসি দেশ খুব কাছ থেকে দেখেছেন। পাখির চোখে উড়ে উড়ে দেখা নয়, এদেশ ও এদেশের মানুষ লেখিকার আত্মদর্পণে প্রতিফলিত এক জীবন্ত সত্তা। ছোট ছোট নকশা বা রম্যস্বাদু প্রবন্ধে তিনি ধরে দিয়েছেন আমাদের জানা-অজানা সেই বহুবর্ণী দেশের বাইরের অগাধ বৈচিত্র্য, ভেতরের নিবিড় রহস্য। তাঁর রচনায় চিত্রিত হয়েছে এখানকার মানুষজন, তাদের জীবন, সুখ-দুঃখ, সাংস্কৃতিক জীবন, সমাজ জীবন, একাকিত্ব বোধ, জাতিবিদ্বেষ, ফরাসি নারীর জীবনযন্ত্রণা ও দীর্ঘশ্বাস। ফরাসি দেশ সম্পর্কে এমন উপভোগ্য এবং ভিন্ন স্বাদের রচনামালা কোনও বাঙালি লেখিকার কাছ থেকে আগে কখনও আমরা পাইনি।