বিদ্যা হিসেবে অর্থনীতির চিন্তার ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, গোড়ার দিকে নৈতিকতা একটা অত্যন্ত জরুরি ভূমিকা পালন করেছে সেখানে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাচ্ছে উনিশ শতকের শেষ ভাগে এসে। অর্থনীতি হয়ে উঠছে ‘বিজ্ঞান’। বলা হচ্ছে, তার তত্ত্বদৃষ্টি আমাদের ভালমন্দের বা উচিত-অনুচিতের বোধ-নিরপেক্ষ— এক অর্থে, নীতি-নিরপেক্ষ।
বহু ঘাটের জল পেরিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও আজ এসে দাঁড়িয়েছে নৈতিকতার সংকটমুহূর্তে। মানবজীবনের সঙ্গে এতটা সম্পৃক্ত একটি বিষয় থেকে ভালমন্দের বিচারকে কি সত্যিই বাদ রাখা যায়?
‘নীতির পথে অর্থনীতি’-র মর্মস্থলে আছে এই প্রশ্নটি। বিদ্যা হিসেবে অর্থনীতির জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি এক সুবিস্তৃত ঐতিহাসিক পটভূমির ভিতরে ‘নীতি’-র যাত্রাকে অনুসরণ করে এই বই। ‘অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ’ থেকে অপ্রয়োজনীয় ‘আবেগপ্রবণতা’ হয়ে, আবারও কীভাবে অর্থনীতির তত্ত্বচিন্তায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে নীতিবোধের ভাষা-ভাব-আঙ্গিক— অর্থতত্ত্ব-ইতিহাসের অলিতে গলিতে সেই যাত্রাটিকেই অনুসরণ করে এ-বই।