‘সাহেব বিবি গোলাম’ উপন্যাসের ভূতনাথকে মনে আছে? ওই প্রাচীন জমিদারি বাড়িতে সে এসেছিল এক সাধারণ চাকরি নিয়ে। ধীরে ধীরে ভূতনাথ সেই বাড়ির অঙ্গ হয়ে উঠল। ওকে ছোটবউ তঁার প্রাণের কথা বলেন। জবা তাকে ভালবাসে! বৃদ্ধ ঘড়িবাবু (যিনি বাড়ির সমস্ত ঘড়ির শরীরস্বাস্থ্যর দেখভাল করেন) তিনিও তঁার অতীতের কথা শোনান ভূতনাথকে। ভূতনাথ জমিদার বাড়িতে কাজ করতে করতে একদিন প্রকৃতির নিয়মে হয়ে যায় সুপারভাইজার। ভূতনাথের চোখের সামনে অতিবাহিত হয় এক দীর্ঘ সময়। তবু ভূতনাথ জমিদারবাড়িতে স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেও যেন জমিদার বাড়ির কেউ নয়! একাত্ম হয়েও সে বিচ্ছিন্ন। তারপর একদিন সেই ভেঙে যাওয়া বাড়িটার ধ্বংসাবশেষের থেকে ভূতনাথ খুঁজে পায় ছোট রানিমার কঙ্কাল। সাংবাদিক ভূতনাথও যেন ঠিক সেইরকমই এক আউটসাইডার। অথচ রাজধানী দিল্লির নর্থ ব্লক সাউথ ব্লক থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন হয়ে সংসদ ভবন— ভূতনাথের স্বচ্ছন্দ বিচরণ। এরপর কয়েক দশক দিল্লিতে অতিবাহিত করার পর তার মনে হয় যে, এবার থামার আগে একবার পিছন ফিরে তাকাই। এই হল ভূতনাথের পিছন ফিরে দেখা। ভূতনাথ নিভে যাওয়ার আগে একবার জ্বলে উঠতে চায় দপ্ করে! নিজের হৃদয়ের
আদালতে দাঁড়িয়ে ‘গীতা’ ছুঁয়ে ভূতনাথ বলছে, যাহা বলিব সত্য বলিব!