বর্তমান থেকে অতীত, নয়তো অতীত থেকে বর্তমানের রশি ধরে আমরা অহর্নিশ হাতড়ে বেড়াই, খুঁজে ফিরি আশার জ্বলন্ত অঙ্গার। যেখানে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে প্রেম-ভালোবাসা, জিয়নের অধরা সংগীত। নিজগৃহে পরবাসী জহির, রওশনের স্বেচ্ছায় নির্বাসন-এখনো জেগে আছে সামান্য উত্তাপ আহরণের অভিলাষ নিয়ে। বীরাঙ্গনা ফালানির মা বাসন্তী রানীদের দীর্ঘশ্বাস ৪৪ বছর পরও সরব হয়ে আছে সামান্য পাওয়ার কালো অন্ধকারে। চাপা পড়ে আছে জীবনের অবহেলিত প্রচ্ছায়ায়। ডুবুরি রাজীব সাগর জলের গভীরে কি খোঁজে, তা তাঁর জানা নেই? জাফর খোঁজে সোমাকে।
মানুষ খোঁজে সামান্য মায়া-মমতার আশ্রয়। চায় সামান্য সুখ। শান্তির একটুকুন বিস্তার। তা কি পায় সে? এই সংকলনের গল্প সাধারণের জীবনযাপনের আখ্যান-মর্মকথাও। ভালোবাসার এক অক্ষয় আদি-চিত্রও।
কথাসাহিত্যিক রেজাউর রহমান অর্ধ শতাব্দী ধরে লিখে চলেছেন গল্প-উপন্যাস। তাঁর কথা-কাহিনিতে ফুটে ওঠে মানুষের, সমাজের আচার-অনাচারের নানা দৃশ্য। বেদনার ব্যাপ্তি। লেখক সেই ব্যাপ্তিরই সুনিপুণ মায়াজাল গড়ে তুলেছেন আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে, যা পাঠকের মনোজগৎ ছুঁয়ে যাবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।