‘অরণ্যের দিবারাত্রি: তিলাইয়া থেকে আমাজন’ এবং ‘VIVA অ্যান্টার্কটিকা’ আখ্যানের পর এবার ‘গ্যালাপ্যাগোসের খোশগল্প’— ডারউইন সাহেবের পায়ে পায়ে— একেবারে ‘বিবর্তনবাদ’-এর আঁতুড় ঘরে। এই ভ্রমণকাহিনি নিছক বেড়ানোর গল্প নয়। লেখিকার স্বকীয় সরস ভঙ্গিতে পরিবেশিত হয়েছে এই দ্বীপসমষ্টির অনন্যসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এন্ডেমিক জীববৈচিত্র, মানুষজনের সাবলীল বর্ণনা। সঙ্গে সঙ্গে অবধারিতভাবে উঠে এসেছে আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্ভূত এই দ্বীপগুলির জন্মবৃত্তান্ত, বিবর্তনবাদ তত্ত্বের আলোচনা, পরিবেশ সংরক্ষণের ভাবনা ইত্যাদি। সবই কিন্তু সহজবোধ্য আলাপচারিতায়, যাতে সব বয়সের পাঠকই পাবেন বেড়ানোর আনন্দ এবং চিন্তার খোরাক। আছে এই আখ্যানের বিচিত্র চরিত্ররা— পর্বতপ্রমাণ কচ্ছপ, অদ্ভুতদর্শন ইগুয়ানা, সি লায়ন পরিবার, পক্ষীজগতের সুন্দরী ফ্লেমিঙ্গো, ডাকাতে ফ্রিগেট পাখি, নীলচরণ বুবি, মাছশিকারি পেলিক্যান এবং অবশ্যই ‘ডারউইন ফিঞ্চ’। আবার হাঙরের সঙ্গে সাঁতার, সামুদ্রিক কচ্ছপের ঢুঁ— এমন সব রোম খাড়া করা অভিজ্ঞতার গপ্পোও আছে এই বইয়ে। সঙ্গে উপরি হিসেবে আছে শান্ত সমাহিত যিশু এবং প্রাণোচ্ছল সমুদ্রসৈকত নিয়ে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো ও বিষুবরেখার (Equator) ওপর অবস্থিত ইকুয়েডরের ছোট্ট, ছিমছাম শহর কিতো-র ঝটিকা সফর। সঙ্গের ছবিগুলি লেখাটির সার্থক পরিপূরক হয়ে উঠেছে। এই বইটি নিঃসন্দেহে অন্য স্বাদের এক ভ্রমণকাহিনি।