‘রোহিঙ্গা নয় রোয়াইঙ্গা (অস্তিত্বের সংকটে রাষ্ট্রহীন মানুষ)’ ‘রোহিঙ্গা’ বলে যাঁদেরকে আমরা জানি, তাঁরা সবসময় নিজেদেরকে ‘রোয়াইঙ্গা’ বলে পরিচয় দেন। যে জাতি নিজেদেরকে ‘রোয়াইঙ্গা’ বলেন, তাঁদেরকে আমরা ‘রোহিঙ্গা’ কেন ডাকব? প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘবছরের চর্চা এবং উপস্থাপনার ভেতর দিয়ে ‘রোয়াইঙ্গা’ হয়ে উঠেছে ‘রোহিঙ্গা’। তাই, এ বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘রোয়াইঙ্গা’, যার প্রাথমিক বাসনা হচ্ছে রোয়াইঙ্গা জাতির ‘বিকৃত’ নাম থেকে ‘প্রকৃত’ নামে ফিরে আসা। ‘রোয়াইঙ্গা’ একটি রাষ্ট্রবিহীন জাতি, যাঁরা উপস্থাপিত হন ‘পৃথিবীর সর্বাধিক নির্যাতিত নৃগোষ্ঠী হিসাবে’। ২০১৭ সালে সংঘটিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ঘটনা ‘রোয়াইঙ্গা’কে যেমন দেশী-বিদেশী মিডিয়া-শিরোনামের বিষয় বানিয়েছে, তেমনি মানুষেরও নিত্যদিনের আলোচ্য বিষয়ে পরিণত করেছে। মিয়ানমার যখন নিষ্ঠুরতার চরমতা দিয়ে রোয়াইঙ্গাদের বিতাড়িত করছে, বাংলাদেশ তখন মানবতার সর্বোচ্চতা দিয়ে রোয়াইঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের জীবনে প্রায় এক মিলিয়নাধিক রোয়াইঙ্গাদের প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। তাই প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে আর কতোদিন? এ রোয়াইঙ্গা আসলে কারা? তাঁদের জীবন কেন আজ সংকটাপন্ন? রোয়াইঙ্গারা কি উগ্র-জাতীয়তাবাদিী রাজনীতির শিকার, নাকি পুঁজিবাদি অর্থনীতির বলি? রাষ্ট্রবিহীনতার ধারণা কি আধুনিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থারই ফসল? নাকি মানুষের সমাজের ক্রমবর্ধমান শ্রেণিবৈষম্য ও (ঢেকে রাখা) বর্ণবাদের প্রতিফল? এ গ্রন্থে তাত্ত্বিক এবং অভিজ্ঞতালব্ধ বিশ্লেষণ দিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।