ভারতের অন্যতম মহাকাব্য মহাভারতের শান্তিপর্বে মোক্ষধর্ম অধ্যায়ে নানা রকম দার্শনিক তত্ত্ব রয়েছে। এই সব দার্শনিক আলোচনার সঙ্গে কৌরব-পাণ্ডবদের কাহিনির প্রত্যক্ষ যোগসূত্র কতটা? পিতামহ ভীষ্ম যখন শরশয্যায় শায়িত তখন তিনি যুধিষ্ঠিরের জগৎ ও জীবন সংক্রান্ত নানা জিজ্ঞাসা নিরসন করছেন। ভীষ্ম কয়েকটি নাস্তিক মতের কথা বলেন। সেখানে সিদ্ধান্তী আচার্য পঞ্চশিখ, আর পূর্বপক্ষগুলি হল লোকায়ত বা চার্বাক, জৈন, বৌদ্ধ বা সৌগত এবং বৈশেষিক। আবার অশ্বমেধপর্বে তৈর্থিক ও উড়ুলোম নামক দার্শনিক সম্প্রদায়ের সন্ধান পাওয়া যায়, যাদের নাস্তিক বলেই সাব্যস্ত করেছেন কাহিনিকার ব্যাসদেব। মহাকাব্যের বিভিন্ন জায়গায় মহর্ষি কণাদ-প্রণীত বৈশেষিক দর্শনকেও ‘নাস্তিক’ বলা হয়েছে। ‘আন্বীক্ষিকী’ বা তর্কবিজ্ঞানও নাস্তিকের শিরোপা পেয়েছে। এই গ্রন্থে মহাভারতের আলোকে সেই নাস্তিক সম্প্রদায়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।মহাভারতে বলছে, যাঁরা পারলৌকিক কার্যে বিশ্বাস করেন না, তাঁরাই হলেন নাস্তিক। এই যে পারলৌকিক কার্য তা অবশ্যই বেদ-অনুসারী হবে এবং যাঁরা পারলৌকিক কার্যসমূহে বিশ্বাস করবেন তাঁরা অবশ্যই বেদেও বিশ্বাসী। সুতরাং মহাভারতের নাস্তিকতা হল ঈশ্বরে অবিশ্বাস, বেদে অবিশ্বাস এবং বৈদিক পারলৌকিক কার্যে অবিশ্বাস।