ঈমানের পরিপূর্ণতা লাভের জন্য আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বাধিক ভালোবাসতে হয়। ইহজীবনে সফলতা ও পরজীবনে নাজাত লাভের জন্য পার্থিব জীবনকে আল্লাহর বিধান ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক পরিচালিত করতে হয়। জীবনজুড়ে আল্লাহপাকের বিশেষ রহমত ও বরকত লাভের জন্য সর্বপ্রকার গোনাহ বর্জন ও নেকী অর্জনে রত থাকার পাশাপাশি যিকির, দুআ, ইস্তেগফার ও দরূদ পাঠে নিমগ্ন থাকতে হয়।
এসকল বিষয়ে সহজে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য দ্বীনী ইলম অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখজনক সত্য এই যে, বর্তমানে এ ইলম অর্জনের জন্য আমাদের অধিকাংশের সময় হয় না। দ্বীনী বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিক পড়াশোনা করে গভীর জ্ঞানী হওয়া তো দূরের কথা; অতি প্রয়োজনীয় জ্ঞানটুকুও আমরা অর্জন করতে পারি না। অথচ আমাদের ভালোভাবে মনে রাখা উচিত, প্রয়োজনীয় দ্বীনী ইলম হাসিল করা ছাড়া যথাযথ দ্বীনের পথে চলা অসম্ভবপ্রায়!
আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের অনেক দ্বীনী ভাই বিষয়টি উপলব্ধি করেন, কিন্তু সঠিক পন্থায় মৌলিক জ্ঞান অর্জনের পথ না জেনে, না বুঝে অনেক ক্ষেত্রে সময় ও মেধার অপচয় করে থাকেন।
যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পড়াশোনার মাধ্যমে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ না হয়, তাহলে অন্তত মৌলিক পড়াশোনাটুকু তো উলামায়ে কেরামের নেগরানীতে অবশ্যই করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অন্যান বিষয়ের আগে তিনটি মৌলিক ও প্রধান বিষয়ে পড়াশোনা করার কথা মুহাক্কিক উলামায়ে কেরাম বলে থাকেন-
১. কুরআনুল কারীম। তথা :
ক. কুরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত,
খ. উলামায়ে কেরামের নেগরানীতে অনুবাদ ও ব্যাখ্যা জেনে নেওয়া এবং
গ. সে অনুপাতে আমল-আখলাক সংশোধন করা
২. হাদীস ও সুন্নাহর নিয়মিত পাঠ। (এটিও উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত)
৩. সীরাতে নববীর নিয়মিত পাঠ।
এ পন্থায় নিয়মিত পড়াশোনার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান অর্জিত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।