এক নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল রুহিতন কুরমি— উত্তর বাংলার তরাই অঞ্চলের নকশালবাড়ির লাগোয়া রাঙালী গ্রামের ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক রুহিতন;— যে স্বপ্নের সাফল্যে অন্ধ দৃষ্টি ফিরে পায়, বোবায় কথা কয়, বন্ধ্যা নারীর সন্তান হয়, ভূমিহীন ভূমি পায়, জনমজুরে রাজ্য চালায়। সেই স্বপ্নের জগৎ গড়ে তুলতে চেয়েছিল রুহিতন তার জীবনের সব কিছু পণ রেখে। শুরু হয়েছিল মুক্ত অঞ্চল গড়ার, শ্রেণি-শত্রুকে খতম করার, গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার লড়াই। কিন্তু, তারপর, কোথা দিয়ে যে কি হয়! কোথায় ঘনায় মেঘ, কোথায় বরষায়; আর, জীবনের রঙিন কাপড়খানি যায় সপসপিয়ে ভিজে! জীবন বোধ হয় এইরকমই। নইলে মহাকালের রথটিকে আগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্পর্ধায় যার স্ফীত নাসারন্ধ্রে দেখা দিয়েছিল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, উদ্ধত গ্রীবার ফুলে-ওঠা কেশরগুলি হাওয়ায় নেচে নেচে উঠেছিল, আর গতির আবেগে চঞ্চল হয়ে উঠেছিল বলদৃপ্ত চরণপেশিগুলি, তাকেই দলিত পিষ্ট করে চলে যায় কেন নিষ্ঠুর মহাকালের চিরচলিষ্ণু নির্মম রথচক্র? সমরেশ বসুর উপন্যাস মহাকালের রথের ঘোড়া নকশালবাড়ি আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা এক আপাতব্যর্থ মহান সংগ্রামীর বিফলস্বপ্নের হৃদয়দ্রাবী কাহিনি— যা বাস্তবের আর কল্পনার তাৎক্ষণিক সত্যের সংমিশ্রণে উন্নীত হয়েছে শিল্পের এক চিরসত্যে।