‘ভুতুড়ে কুকুর’ এক দারুণ জমাটি রহস্য-উপন্যাস, একেবারে শেষ অধ্যায় পর্যন্ত যে-রহস্যের জট ক্রমশ বেড়েই চলে। জট যখন খুলছে, তখন অবশ্য দারুণ মজা আর কৌতুক দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে লুকনো রয়েছে। তখন মনে হয়, আরে, এ-সব সূত্র তো আগেই দেওয়া ছিল, খেয়াল হয়নি তো! খেয়াল হবে কী করে, ভালো রহস্য-উপন্যাসের সার্থকতার মূল চাবিকাঠিই তো এই বর্ণনা, যে-বর্ণনায় সব ইঙ্গিতই আগে দেওয়া থাকে, কিন্তু এমনই নিরীহ আর সহজভাবে যে, সন্দেহই জাগে না। সেদিক থেকে ‘ভুতুড়ে কুকুর’ যথার্থই অসাধারণ। নেকড়ে বাঘের মতো অতিকায় এক বেওয়ারিশ অ্যালসেশিয়ান কোত্থেকে একদিন দেখা দিল এক বাড়ির দরজায়, সে-বাড়ির এক প্রাক্তন মিলিটারি অফিসারের গোপন গহ্বর থেকে যথাসর্বস্ব হল উধাও, বেনারস থেকে ডাকা হল জ্যোতিষীকে, সন্দেহভাজন গৃহভৃত্যটি করল আত্মহত্যা, বাড়ির ছোট্ট একটি ছেলে হল নিখোঁজ- এমন বহু ঘটনা কেবলই বাড়িয়েছে উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনাকে। কিন্তু সেই যে বলে না, সব ভাল যার শেষ ভাল, এ-উপন্যাসের শেষটাও তাই। শেষ পর্যন্ত কীভাবে খুলল সমস্ত রহস্যের জট, কী দারুণ বুদ্ধিগ্রাহ্য আর মজাদার পরিস্থিতিতে অবসান ঘটল সব উত্তেজনার, তাই নিয়েই এই দুর্দান্ত উপন্যাস ‘ভুতুড়ে কুকুর’।