প্রথমে শরীর, তারপর মনের সম্মিলনে গড়ে ওঠে মানুষের সত্তা। এই পৃথিবীতে সর্বোত্তম প্রাণময় সত্তা হল মানুষ। নিজের জীবৎকালের সীমার মধ্যে মানুষ চায় নীরোগ দেহ ও প্রফুল্ল মন নিয়ে বাঁচতে। কিন্তু একই সঙ্গে সুস্থ শরীর ও আনন্দে পূর্ণ মনের সংযোগ এখন প্রায় দুর্লভ। নানাবিধ চিকিৎসা ব্যবস্থাও এই কাজে সাফল্যলাভ করতে পারেনি। অথচ প্রাচীন ভারতে মনীষীরা এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন যার সাহায্যে মানুষ সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে শরীরে ও মনে। এই পদ্ধতিই আজ বিশ্বজুড়ে যোগ বা যোগচিকিৎসা নামে বহুখ্যাত। বিভিন্ন চিকিৎসার জটিল প্রক্রিয়া ও প্রায়োগিক প্রতিক্রিয়ায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে আজকের মানুষ যোগচিকিৎসা গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। যে-রোগহীন জীবনের দিশা যোগচিকিৎসা দিয়েছে তার মূলে আছে যোগদর্শনে উল্লিখিত অষ্টাঙ্গযোগের তৃতীয় অঙ্গ ‘আসন’। আসন অর্থাৎ আ-স-ন। ‘আ’ অক্ষরের অর্থ সর্বত্র। ‘স’ অর্থাৎ ঈশ্বর। আর ‘ন’-এর অর্থ জ্ঞান। সর্বত্র ঈশ্বর জ্ঞান অর্থাৎ সমস্ত প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা জয় করে উদারচেতনার পথে উত্তরণ। দেহতরঙ্গকে অবরোধক বিজ্ঞানের দ্বারা জয় করাই আসন সাধনার মূল ও একমাত্র পথ। যোগ চিকিৎসা প্রথম খণ্ডের মতোই এই দ্বিতীয় খণ্ডেরও বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন আসনের সচিত্র বিস্তৃত উপস্থাপনা। দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সমূহকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়ায় সঞ্চালন এবং সংস্থাপন করে অর্থাৎ আসনের সাহায্যে দেহের ও মনের রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে এ বই অপরিহার্য। প্রথম খণ্ডের মতনই অত্যন্ত যত্ন, সতর্কতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হল যোগচিকিৎসা দ্বিতীয় খণ্ড।