বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর। একাত্তর পরবতী শিক্ষা সংস্কৃতি ইতিহাস ও সংগ্রামের চেতনায় সমাজ অগ্রগতি নিয়ে ভাবছেন অনেকে। কিন্তু এই ভাবনার পাটাতন যাঁরা গড়ে দিয়েছেন তাঁদের কয়জন জানে? জানা অজানা জীবনে আমাদের ইতিহাস বোধের বড়ই অভাব। এই অভাবেই ইতিহাসের দায় ও দায়িত্ব অনুভব করি না। নেই না বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যের শিক্ষা। অশিক্ষার সমাজে বাংলাভাষী এখন নিজেদের খণ্ড খণ্ড ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। যা অত্যান্ত নিদারুণ বেদনার। বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষের শক্তি সম্বন্ধে আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করবার জন্য সাহিত্য সংস্কৃতির মনন পাঠ অত্যন্ত জরুরী। জরুরী আত্মপরিচয়ের সম্যক ধারণা নেওয়া। কালান্তরের অভিযাত্রী’ বইটি সে খেয়ালে পাঠকের পাঠশালা হতে পারে, তবে বিদগ্ধ পাঠকের জন্য না! ‘কালান্তরের অভিযাত্রী বইটি মূলত বাংলা ও বাঙালি বলতে যে ভৌগলিক সীমারেখাকে বুঝায়, সে অঞ্চলের মানুষের অধিকার, সমাজ বাস্তবতা, রাজনৈতিক সচেতনতাসহ জীবন মান উন্নয়নে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের নিয়ে কিঞ্চিত নতুন আলাপ। যদিও তালিকা ও আলোচনা পূর্ণাঙ্গ না, কেবলমাত্র আমিত্ববোধের দুনিয়ায় পাঠকে ধারণা দেয়া সাথে ভাবনায় উস্কে দেওয়া। সূচিবদ্ধ অগ্রগামী একুশ, ঐতিহাসিক বহুঘটনার স্বাক্ষী। তন্মধ্যে বৃটিশ আসার পর বঙ্গভঙ্গ, স্বদেশী আন্দোলন, লাহোর প্রস্তাব, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন ও যুক্তফ্রন্ট সরকারের একুশদফা ও একাত্তরের স্বাধীনতা, দাগ কাটার মতো সময়। কালের পরিক্রমায় প্রাণের দাবীতে সামাজিক মুক্তি ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে জাগিয়ে তুলেছেন বিপ্লবীরা।