বাঙালির মৎস্যপ্রীতি কিংবদন্তি মুখে দুধভাতের কামনা করলেও, মনে মনে বাঙালি মাছভাতের স্বপ্ন দেখেছে। শুধু বাঙালি কেন, প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের অন্যতম খাদ্য মাছ। মিশরীয় সভ্যতার বিভিন্ন স্থাপত্য-শিল্পে আঁকা আছে রঙিন মাছ ও মাছধরার যন্ত্রপাতি। সুমেরীয় ও হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতার নানা নিদর্শনে মাছ শিকারের উল্লেখ দেখা যায়। আশ্চর্য হওয়ার মতো সংবাদ, মিশরে মাছচাষের সূত্রপাত হয় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে। আর চিনে ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে, সুশ্রুতের রচনায় এবং অন্যান্য প্রাচীন কাব্য-সাহিত্যে ছড়িয়ে আছে মাছচাষ ও শিকারের নানা তথ্য ও বর্ণনা। আমাদের দেশে আবার মাছ কোনও কোনও শুভ অনুষ্ঠানে মাঙ্গলিক চিহ্নরূপে গৃহীত।অতীত থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত মাছের সঙ্গে মানুষের যে-সম্পর্ক, তার কথা মনে রেখেই লেখা হয়েছে মাছচাষ সংক্রান্ত এই বিজ্ঞানভিত্তিক অতিপ্রয়োজনীয় বইটি। বাংলা ভাষায় উপযুক্ত বিজ্ঞান গ্রন্থের খুবই অভাব। মাছচাষের ক্ষেত্রে তা আরও প্রকট। অথচ স্নাতকোত্তর পঠনপাঠনে, গবেষণায়, এমনকী এই জলজ ফসলের বাণিজ্যে মৎস্যবিজ্ঞান এখন জনপ্রিয় পাঠ্যবস্তু। আবার মাছচাষের ব্যাপক সম্ভাবনার ফলে যাঁরা এ বিষয়ে আগ্রহী, তাঁদেরও অনেক কিছু জানার আছে। মাছচাষের সাত-সতেরো অর্থাৎ ‘ফিসারিজ’-এর সমস্ত দিক নিয়ে এই সচিত্র ও সমৃদ্ধ গ্রন্থটি মৎস্যবিজ্ঞানের আলোচনায় এক নতুন সংযোজন।