পথ আর জীবন নিয়ে সাহিত্যে কত কথাই না লেখা হয়েছে। কিন্তু যে-মানুষ পথ দিয়ে হেঁটে গেলে ধুলোয় ফুটে ওঠে অবিকল এক সরীসৃপের চলার আঁচড়, তার কথা? তেমনই এক মানুষ তবু সরীসৃপের অজানা জীবন-ইতিহাস এই ভিন্নধর্মী উপন্যাসে। তার নাম ঈশানচন্দ্র। গ্রামবাংলার এক অন্ত্যজ পরিবারে জন্ম। ছোট্টবেলা থেকে তার পা দু’খানি নষ্ট। সরু, লিকলিকে, মৃতপ্রায় সেই পা নিয়ে জীবনের দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে চেয়েছিল ঈশান। কিন্তু কী দিল জীবন তাকে? আবুল বাশারের জীবন্ত কলমে এক অভিনব উপন্যাস ‘স্পর্শের বাইরে’। একাহিনীর বিষয় আলাদা, স্বাদ স্বতন্ত্র, চাল ভিন্ন। যেন ঈশানচন্দ্রের নিজেরই লেখা এক ‘জীবনচরিত’ থেকে নানান অংশ শোনাচ্ছেন ঈশানের বাল্যবন্ধু এবং পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠিত এক লেখক। লেখকের ভূমিকা এখানে কখনও কথকের, কখনও ভাষ্যকারের। কখনও আবার আত্মস্মৃতির সঙ্গে বাল্যবন্ধুর জীবনস্মৃতিকে মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। সামাজিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল এক মানুষের শরীর ও মনের, প্রেম ও বঞ্চনার, সাফল্য ও পরাজয়ের অনবদ্য কাহিনী ‘স্পর্শের বাইরে’।