মদনজিৎ সিং দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক একক মুদ্রার নামকরণ করেন ‘সাশিয়া’ । তাঁর আশা যে এই মুদ্রাটি ইউরো-র মতই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আর আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নঙ্গরসম হয়ে উঠবে। এই গ্লল্পটিতে আছে এক তরুণের প্রাণবন্ত কর্মতৎপরতা আর উৎসাহী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দেশবিভাজনের পরবর্তী ঘটনাবলী ও ভারত-পাকিস্তানের মাঝে ভয়ঙ্কর ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বের কারণে প্রচণ্ড মনোবেদনার কথা। ১৯৯৫ সালে মদনজিৎ সিং সুমিত্রা ফাউন্ডেশন (এসএফ) প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়। তারপর অত্যন্ত আকস্মিকভাবে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন: তাঁর পুত্র জিৎ-এর প্রতিষ্ঠিত মার্কিন সফটওয়্যার কোম্পানীর স্টকের মূল্য আকাশচুম্বী হয় এবং তিনি তাঁর অংশের শেয়ারগুলি বিক্রি করে ২০০০ সালে সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশন (সাফ) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী, নন-প্রফিট, অরাজনৈতিক এবং নিরপেক্ষ যুবা আন্দোলন। এর লক্ষ্য হচ্ছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার অসুবিধাগ্রস্ত আর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের কল্যাণ। শিক্ষামূলক কর্মসূচি এবং মানুষে মানুষে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে সাফ ঐ লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। মদনজিৎ সিং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, কোন দেশই তার পুরো জনগণকে সঙ্গে না নিয়ে অগ্রসর হতে পারে না। এঁদের মধ্যে রয়েছেন সেইসব দরিদ্র কৃষিজীবি, যাঁরা দিনে এক ডলারেরও কম আয়ের উপর বেঁচে আছেন। গ্রামীণ দক্ষিণ এঁরাই হলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। অপরদিকে, আজকের দ্রুতগতিসম্পন্ন ও তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ দুনিয়ায়, আঞ্চলিক সহযোগিতা নিতান্তই অপরিহার্য। কোন দেশের পক্ষেই এখন একা একা নিজ নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। সুমিত্রা ফাউন্ডেশন আর সাউথ এশিয়া ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য একই মুদ্রার এপিথ-ওপিঠ ¬¬¬¬¬– আর সেটাই হলো ‘সাশিয়ার গল্প’ এর প্রধান উপজীব্য।