সন্ন্যাসী বিবেকানন্দের পরিব্রাজক জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় কেটেছিল রাজস্থান তথা খেতড়ীতে। এমনকী তাঁর স্বপ্ন-প্রোথিত বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের বীজতলি অঙ্কুরিত হয়েছিল খেতড়ীতেই। যেখান থেকে তিনি রাজকীয় মহিমায় বিশ্ববিজয়ে বেরিয়েছিলেন। সুদূর প্রবাস হয়ে উঠেছিল তাঁর সেক্রেটারিয়েট। স্বদেশ ও বিদেশের কাছে তাঁর ঠিকানা ছিল ‘মহারাজা, খেতড়ী, রাজস্থান, ভারতবর্ষ’। খেতড়ীর মহারাজা অজিত সিংহ বাহাদুর স্বামীজির শুধু ভক্তশিষ্য ছিলেন না, তিনি হয়ে উঠেছিলেন স্বামীজির পরম মিত্র, আত্মার আত্মীয়, দুর্দিনের আশ্রয়, আর্থিক নির্ভরতা, পরিবারের অভিভাবক, হতাশায় প্রেরণা। সেই প্রতীতি স্বামীজির হৃদয়ে আজীবন ভাবনা-ভাস্কর্য হয়ে ব্যাপ্ত ছিল- ‘পৃথিবীতে যা কিছু করতে পেরেছি তা আপনার সাহায্যেই সম্ভব হল। আপনি আমাকে নিদারুণ দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলেন। জগতের সম্মুখীন হওয়ার সুযোগ দিলেন।’ এই গ্রন্থে বহু স্তরে এবং বহু বিস্তারে উন্মোচিত হয়েছে এমন বহু অনালোচিত ইতিহাস। প্রবাসী গ্রন্থকার রাজস্থান তথা খেতড়ীর পরিসর থেকে অনুপুঙ্খ অনুশীলনে তুলে দিয়েছেন খেতড়ী রাজ্য, মহারাজা অজিত সিংহ ও স্বামী বিবেকানন্দের ছড়িয়ে থাকা মনোবীজ— সার্বিক ব্যাপ্তিতে বিস্ময়কর সব তথ্য— অপ্রকাশিত পত্রাবলী, নানা নথিপত্র, রাজ্যের ওয়াকিয়াৎ রেজিস্টারের অনুবাদ, গুরুত্বপূর্ণ চিত্রের সমাবেশ যা এই গ্রন্থের অমূল্য সংযোজন।