ভাষা মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। সে মুখের ভাষাই হোক, কি লেখার। এই ভাষার সাধনাতেই তৈরি হয়েছে শব্দ আর অর্থ, বাক্য আর তার প্রয়োগবিধি; তৈরি হয়েছে নাম—যেমন মানুষের, তেমনই তার চারপাশে ছড়ানো সমস্তকিছুর। কিন্তু তবু থেকে গেছে বহু প্রশ্ন। কীভাবে এল শব্দ? কীভাবেই বা শব্দ অর্জন করল অর্থ? এ কি ঐশী বিধানের ফল, নাকি পুরোটাই মানুষের খামখেয়াল? শব্দ বা নামই কি শেষ কথা, নাকি নামেরও দরকার কোনও নামকরণ? দরকার যদি হয়ও, সেই নামকরণই বা হবে কীভাবে? কোন্ সম্বন্ধে গাঁথা বাক্য ও অর্থ? অর্থ কী? বস্তু? নাকি ধারণা? অথবা প্রতিক্রিয়া? কিংবা এর কোনওটিই নয়, শুধুই প্রয়োগ? প্রয়োগই বা সার্থক কখন এবং কীভাবে? আদৌ কি দূর করা সম্ভবপর বাক্যের অস্পষ্টতা? কীভাবে? শব্দ তো কখনও দ্ব্যর্থবোধকও, তখন? সব শব্দ তো স্পষ্ট করে না অভিপ্রেত অর্থকেও, তা হলে? কোন্ বাক্য অর্থহীন, কোন্টি অর্থবান—বিচার করার মানদণ্ডই বা কী? ভাষা নিয়ে যাঁরাই চর্চা করেন, তাঁদেরই মনে এমন নানান প্রশ্ন। দর্শনের শ্রুতকীর্তি অধ্যাপক রমাপ্রসাদ দাস তাঁর এই বইতে সেই সমূহ প্রশ্নেরই উত্তর অন্বেষণ করেছেন। একইসঙ্গে, যুক্তি-শৃঙ্খলের অনন্য পরম্পরায় সাজিয়ে দিয়েছেন ভাষাচর্চার নানান দিককে, তার লক্ষ্য ও অর্জনকে। ভাষাদর্শন বিষয়ে বাংলা ভাষায় এতকাল কোনও বই লেখা হয়নি, পথিকৃৎ এই বইটি সেই অভাবকেও পূরণ করল, ভাষাচর্চার ক্ষেত্রে উন্মোচন ঘটাল নতুন দিগন্তের। অধ্যাপক রমাপ্রসাদ দাসের আলোচনার ভঙ্গিটি ঋজু ও সর্বজনগ্রাহ্য, চয়িত দৃষ্টান্তগুলি সবই সাহিত্যের এবং সুপরিচিত, বাংলা ভাষা ব্যবহারকে আরও সুঠাম করে তুলতে সাহায্য করবে তাঁর এই আলোচনাগ্রন্থ।