আপাতদৃষ্টিতে ‘পূর্বক্ষণ’ একটি বিষাদময় প্রেমের উপন্যাস। রুশ তরুণী এলেনা এবং বুলগেরিয়ার মুক্তিসগ্রামী ইনসারভের প্রেমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাস। তবে শুধু একজোড়া তরুণ-তরুণীর প্রেম নয়, এই উপন্যাস ধারণ করেছে সমসাময়িক রাশিয়ার মধ্যবিত্ত জীবনের সারাৎসারকে। সুনির্দিষ্ট বছরের উল্লেখ করে তুর্গেনেভ ‘পূর্বক্ষণ’ উপন্যাসটি শুরু করেছেন। ১৮৫৩-র গ্রীষ্মের এক উষ্ণ দিন। উপন্যাসের নামকরণ প্রসঙ্গে তুর্গেনেভ নিজেই লিখেছিলেন—“যে সময় এই উপন্যাস প্রকাশিত হয় সেই সময়ের জন্য আমি এই উপন্যাসের নাম দিই 'পূর্বক্ষণ'। রাশিয়া তখন এক নবজীবনের সন্ধিক্ষণে। তুর্গেনেভ ঔপন্যাসিক বীক্ষা শুরু করেছিলেন সমাজ ও মানুষের পেছনে সঞ্চালিকা শক্তির অন্বেষণ করতে গিয়ে। মানুষ কি নিজের জীবনের গতিধারা বুঝতে পারে? নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? সমাজের নিয়তি কি ব্যক্তিজীবনের যােগফল নাকি সমাজ তাকে নিয়ন্ত্রণ করে? তুর্গেনেভ এই সমস্ত প্রশ্নের দার্শনিক ও শৈল্পিক উত্তরসমূহ পরীক্ষা করেন তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে। আর সেই কারণেই স্থান ও কালনির্দেশ তাঁর রচনায় গুরুত্ব বহন করে।