‘নরেন্দ্র মোদীর ভারত’ কি নতুন কোনও দেশ? এই প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলা ছাড়া উপায় নেই। শাসকরা সংখ্যাগরিষ্ঠের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে ইন্ধন জোগান বলে এই ভারত নতুন নয়, দেশের মানুষ সেই সাম্প্রদায়িকতাকে ক্রমে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে বলে নতুন। আর্থিক বৃদ্ধির মুখ চেয়ে ভারত হিন্দুত্ববাদকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে এই দেশ নতুন। শাসকদের রাষ্ট্রের সঙ্গে এক করে দেখতে শিখেছে এই নতুন ভারত, রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছে। অর্থনীতির ভাবনায় বৃদ্ধির হার গুরুত্ব পেয়েছে, পিছনে পড়ে থেকেছে আর্থিক সাম্যের প্রশ্ন। দরিদ্রতম মানুষের অধিকারের দাবিকে অবজ্ঞা করে স্মার্ট সিটির স্বপ্ন দেখেছে এই নতুন ভারত। এই নতুন ভারতকে বুঝতে চাইলে নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর রাজনীতিকে না বুঝে উপায় নেই। কী ভাবে গুজরাত গণহত্যার স্মৃতি মুছে তিনি হয়ে উঠলেন আর্থিক বৃদ্ধির জাদুকর, কী ভাবে জাতীয়তাবাদের সঙ্গে এক করে ফেললেন হিন্দুত্বকে, এই নতুন ভারতের পরতে পরতে সেই আখ্যান। এই ভারত যে নরেন্দ্র মোদীরই, তাতে সংশয়ের অবকাশ নেই।যে ভারত ছিল, তা কি হারিয়েই গেল চিরতরে? গণপরিসরে ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারবাদ, সহিষ্ণুতা, সর্বজনীন উন্নয়ন, এ সবই এখন অতীত? গাঢ় অন্ধকারের মধ্যেও দু’একটা আশার ফুলকি চোখে পড়ে। মোদীর ভারতের পুরো ছবিটার সামনে দাঁড়ালে এখনও অনেকেই লজ্জিত হন। সেই লজ্জা আসলে সভ্যতা থেকে চ্যুতির। এখন, সেই লজ্জাটুকুই ভরসা। সেটাই পারে এই অন্ধকার সরিয়ে, অ-সভ্যতাকে দূরে ঠেলে পুরনো ভারতকে ফিরিয়ে আনতে।