বঙ্গীয় শব্দকোষের সংকলক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় আপন কীর্তির জোরে মৃত্যুঞ্জয়ী। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর জীবনের পরম অভিভাবক। হরিচরণের পিসতুতো দাদা জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে খাজাঞ্চির কাজ করতেন। সেই সূত্রে হরিচরণ কবির স্নেহলাভ করেন ছাত্রজীবন থেকেই। রবীন্দ্রনাথ এই দরিদ্র, মেধাবী ছেলেটির শিক্ষার ব্যয় বহনে উদ্যোগী হন। হরিচরণের শিক্ষার্থে পরবর্তীতে তদ্বিরও করেন নানা জায়গায়। ক্রমে হরিচরণ শান্তিনিকেতনে কবির প্রতিষ্ঠিত ব্রহ্মচর্য্যাশ্রমে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। কবির উৎসাহ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হরিচরণ বারো বছরের পরিশ্রমে শেষ করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ অভিধান সংকলনের কাজ। জীবনে রবীন্দ্রনাথকে তিনি যেভাবে পেয়েছেন, জেনেছেন, তারই শ্রদ্ধার্ঘ্য এই গ্রন্থ ‘রবীন্দ্রনাথের কথা’। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘সেই মহাপুরুষের উপদেশে, কথাবার্ত্তায়, ব্যবহারে ও অনুষ্ঠানে যে সকল মহত্ত্বের পরিচয় পাইয়াছি, তাহাই ইহাতে সন্নিবেশিত প্রবন্ধসমূহের বিষয়; এই বিষয়গুলি অধিকাংশই আমার প্রত্যক্ষীভূত।’ রবীন্দ্রনাথের মাধুর্যমণ্ডিত চরিত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের কাব্য ও অন্যান্য রচনাবলীর আলোচনায় সমৃদ্ধ এই গ্রন্থ পাঠকের কাছে চিরকালীন সম্পদ।