বর্ণমালা সৃষ্টির আগে মানুষ তার সমসাময়িক সমাজচিত্র পরবর্তী সমাজের জন্য প্রবাহিত শ্লোক, গাথা, ছড়া ইত্যাদির মাধ্যমে ধরে রাখত। বর্ণমালা আবিষ্কারের পর ইতিহাস সংরক্ষিত হতে থাকে বইয়ের পাতায়। আমরা ইতিহাসের পাতায় ভর করে চলে যেতে পারি শত-সহস্র বছর প্রাচীন পৃথিবীতে-যাতে করে খুঁজে পাই আদি মানবের ব্যুৎপত্তি, বিকাশ, তৎকালীন সমাজচিত্র, মিথ, রূপকের নানা বাস্তব ও কল্পকাহিনি। যার অনেক কিছুই আমাদের অনুভবকে কখনো হিমশীতল, আবার কখনো তপ্ত লোহার মতো গরম করে ফেলে। তবে ইতিহাস জানার প্রবৃত্তি মানুষের সহজাত আর মানুষ সবচেয়ে বেশি জানতে চায় নিজের উৎপত্তি, পূর্বপুরুষ, সমাজ ও উত্তর জনপদের বহমান জীবন। এ চাওয়া থেকেই হয়তো আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চার ধারা। ইতিহাসের উপাত্তের মধ্যে সমকালীন সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতিচ্ছবি ছড়িয়ে থাকে।
যারা টাঙ্গাইল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেছেন তাদের জানাই সাধুবাদ। তবে ইতিপূর্বে সংগঠিত কাজে অনেক বিষয় বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনা ও কর্মকা-ের, পর্যাপ্ত তথ্য অনেকাংশে অনুপস্থিত। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই তথ্য অপর্যাপ্ত, নাতিদীর্ঘ বর্ণনা এবং অনেক বিষয়কে এতটা দীর্ঘায়িত করা হয়েছে যে, গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও সাধারণ পাঠকের রস আস্বাদনে ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে। বরং ক্ষুদ্রাকার, তথ্যবহুল বর্ণনা ও সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা যথার্থ নয় কি? যদি কেউ বিস্তৃত জানতে চায় সে তার অনুসন্ধিৎসু জিজ্ঞাসার কারণেই তথ্যউপাত্তের সন্ধান করে নেবে। এসব ভাবনা থেকেই জেলা পরিচিতি : টাঙ্গাইল বই-এর অবতারণা। জেলা পরিচিতি : টাঙ্গাইল গ্রন্থ পাঠান্তে পাঠক জেলার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। সাম্প্রতিক বিষয়াবলি ছাড়াও ইতিহাসের নানা উপকরণ সন্নিবেশ করা হয়েছে এই গ্রন্থে।