এই বর্ণাঢ্য উপন্যাসটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি অস্বাভাবিক নরহত্যা এবং সেই রহস্য উদ্ঘাটনের রুদ্ধশ্বাস ‘থ্রিলার’, কিন্তু এটি ঠিক প্রথাগত রহস্য উপন্যাস নয়। এখানে পাশাপাশি চলেছে একটি হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান, আর স্বাধীনতার স্বরূপ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা। স্বাধীনতাকে কেমন দেখতে তা জানতে চায় ঝাড়খণ্ড আর বাংলার সীমান্তবর্তী মফস্সলে বড় হয়ে ওঠা বালক বুধুয়া- বন্দুক নিয়ে যে খেলা করতে শিখেছে। জানতে চায় রত্না, বুলাকিলাল, আর সিলেটরাও- যাদের দিন কাটে সমাজের অনিশ্চিত প্রান্তভূমিতে, নারীত্ব আর পুরুষত্বের মাঝামাঝি এক সীমাহীন দোলাচলে। স্বাধীনতার স্বরূপ খুঁজে বেড়ান অগ্নিযুগের বিপ্লবী অমিয়ভূষণ, আর তাঁর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী পুত্র অর্ণব। খোঁজে গৌরাঙ্গও, অপরাধ জগতের নিরালোক গলি-খুঁজিতে যার বিক্ষিপ্ত পদচারণা। বিশাল প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাস জুড়ে সমাজের নানা স্তরের, নানা মাপের মানুষের নক্সীকাঁথার বিচিত্র ঠাসবুনন। প্রতিটি চরিত্রই বাস্তবতার স্পর্শে ত্রিমাত্রিক, জীবন্ত। যে রূঢ় প্রাত্যহিকতার সঙ্গে তারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে, একটি টান-টান রহস্য উপন্যাসের অবয়বে, ‘স্বাধীনতা তুমি’ সেই সামাজিক অবক্ষয়ের বর্ণময় ক্যানভাস।