মানুষটি একটু অন্য রকমের। আপাত-স্বাভাবিকতার মধ্যে তার এই অদ্ভুতত্ব খুব ঘনিষ্ঠজনেরা কিছু কিছু বোঝে, সে নিজে বোঝে কম। কোনও এক ভেতরের জগতের সঙ্গে যেন তার অস্পষ্ট জানাশোনা। ধরতে চেষ্টা করে, পারে না। এদিকে রয়েছে জীবন, পরিবার, বিশ্বাস, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রেম, সাফল্য। এই জীবনকে যেন সে দূরের কোনও প্রতিচ্ছায়ার মতো দেখে। স্বপ্নে জাগরণে ইঙ্গিত এসে পৌঁছয় তার কাছে, তার পাঠোদ্ধার করতে পারে না সে। সে যেন এ গ্রহে পুরোপুরি জন্মায়নি। আধখানা জন্মেছে, আধখানা রয়ে গেছে অন্য কোথাও। দূরই কখনও রহস্য-নিকট হয়ে যেতে থাকে তার চেতনায় এবং নিকট হয় রহস্য-দূর। অস্তিত্বের এই দুই বিপ্রতীপতার মধ্যে চলমান তার জীবনের ছন্দ ও ছন্দপতন। জীবনকে এইভাবে পাওয়া, তার সঙ্গে নিজেকে অন্বিত সম্পৃক্ত করবার অক্ষমতা। এ কি তার একারই? না বিপুলা পৃথিবীতে এমন মানুষ আরও আছে! না থাকলে সে লেখকের চেতনায় বিম্বিত হল কী করে? তার চারপাশের মানুষগুলিও তো একটু অদ্ভুত। অন্য রকমের অদ্ভুত, কিন্তু অদ্ভুত নিশ্চয়ই। বাণী বসুর কলমে সম্পূর্ণ অন্য স্বাদের উপন্যাস।