সূর্য স্বর্ণ দ্বীপ (১৯৬৮), বিতর্কিত জ্যোৎস্না (১৯৭৩), নামে যার কেঁপে ওঠে (১৯৯০), তাড়া করে অশুভ সময় (২০০৮), নির্জন পঙ্ক্তিমেলা (২০১৪); এইমতো কাব্যপরিক্রমার পর ফজল-এ-খোদা সভ্যতার চন্দ্রবিন্দু নাম্নী কাব্যদ্বীপে এসে উপনীত-যেখানে তাঁর প্রায় অর্ধশতাব্দীর কবিতাসাধনা সন্ধান করে ফিরেছে আরো সংহত বাঁক। ‘সভ্যতার চন্দ্রবিন্দু’র প্রতীকে কবি মানুষজীবনের মহাবৈশ্বিক বিস্তারকে অনুধ্যানে রেখেছেন। এর একভাগে ব্যক্তি তার প্রগাঢ় নিগূঢ়তায় বিম্বিত আর অন্যভাগে বহির্পৃথিবীর আলোছায়ার ঘটে বিপুল-বর্ণিল রক্তিম সম্পাত। তাই একান্ত উত্তরপ্রজন্ম তাঁর কবিতার বিষয় হয় আবার বৃহদার্থে সমস্ত শিল্পসংসারকেই তিনি প্রকৃত কবিস্বভাবে করে তোলেন একান্নবর্তী। বঙ্গবন্ধু থেকে রবীন্দ্র-নজরুল-মান্নান সৈয়দ-সেলিম আল দীন-মীজানুর রহমান-কামরুল হাসান-শামসুর রাহমান-কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ হয়ে ওঠেন তাঁর কবিতার অনিবার্য প্রসঙ্গ। দিনযাপনের অজস্র অনুষঙ্গ যেমন তাঁর কবিতার নিটোল গড়নে সুভাস্বর তেমনি প্রেমপুষ্পের নবতর পরাগায়ন ঘটেছে ‘সপ্ত আকাশ সাত সমুদ্র’ কবিতায় যেখানে আদম-হাওয়া থেকে চণ্ডীদাস-রজকিনী এক অভিন্ন বেণিবন্ধনে সুরভিত করে তোলে প্রেমপুরাণের শাশ্বত মালঞ্চ।
আমাদের সাংস্কৃতিক মননে যেমন ফজল-এ-খোদা নিয়ত যুক্ত করে চলেন তাঁর অনন্য গীতসুধা ঠিক তেমনি এই কবিতাগুচ্ছের আধারে যেন সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণু অবয়বকে তার সাংগীতিক সুধাকোমলে কবিতা করে তোলেন। মাঙ্গলিক চেতনায় কবিতার কালো অক্ষরে অতঃপর তিনি অন্বেষণ করে চলেন সুন্দরের শুভ্র স্বরূপ। আর কবির ভেতরগত মরমিসত্তা অদ্বৈত হয়ে যায় ইহজাগতিক বোধের অনন্য সম্মিলনে। এই সব কিছু ছাপিয়ে সভ্যতার চন্দ্রবিন্দু-তে প্রধান হয়ে ওঠে অন্তর-অধ্যুষিত ফজল-এ-খোদা নামক এক সংবেদী কবিসত্তা; সমকালীন কবিতায় যার আশ্চর্য-আকুল উচ্চারণ ‘অন্তরের বিকল্প শুধু নাজুক এই অন্তর।’
পিয়াস মজিদ