তৃতীয় পুরুষে লেখা ‘আত্মজীবনী’ শীর্ষক রচনায় মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী নিজের মূল্যায়নধর্মী এই অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, তিনি ‘...বহু পত্রিকায় বহু সংখ্যক প্রবন্ধ লিখিয়াছেন। সেগুলির অধিকাংশই বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। এই সব প্রবন্ধে তাঁহার গভীর স্বাধীন-চিন্তাশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। ভাষার উপর তাঁহার অধিকারও অসাধারণ। ভাবপ্রকাশে তাঁহার লিপি-চাতুর্যও অসামান্য। বস্তুত তাঁহার ন্যায় উচ্চস্তরের চিন্তাশীল লেখক মুসলিম সমাজে অতি অল্পই আছেন। তিনি মনীষী।’
মনীষী কি না এ নিয়ে তর্ক যদি ওঠেও, তাহলেও বিশ শতকের প্রথমার্ধে মননশীল প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে যে-সকল মুসলিম লেখক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী নিঃসন্দেহে তাঁদেরই অন্যতম। কোথাও কোথাও যুক্তিচ্যুত হয়ে স্ববিরোধের শিকার হয়েছেন বটে, কিন্তু সামগ্রিক বিচারে তিনি যুক্তিশীল চিন্তাবিদ অভিধা পাওয়ার যোগ্য। নিজের প্রায়-স্থবির সমাজের উন্নতি কামনায় তাঁর মধ্যে কোনো ঘাটতি ছিল না। তাঁর অন্তরে সর্বদা ক্রিয়াশীল থেকেছে একটি উচ্চতর আদর্শ-চেতনা। রচনাশৈলীতেও তাঁর পারঙ্গমতার স্বাক্ষর স্বপ্রকাশ। সংকলনভুক্ত প্রবন্ধসমূহ থেকে এই সবকিছুর পরিচয় পাওয়া যাবে বলে আশা করি।