বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে গিয়ে যে ইস্যুটি এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসাবে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য তা মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের রোহিঙ্গা জাতির মানুষকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা। মিয়ানমারের সামরিক-বেসামরিক শাসকগোষ্ঠী নির্বিশেষে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করে চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। বৌদ্ধ ধর্মালম্বী রাখাইনদের নাগরিক হিসাবে গ্রহণ করা হলেও উত্তর আরাকানে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আগত বাঙালী বলে নাগরিক হিসাবে বঞ্চিত করে আসছে মিয়ানমারের শাসকগণ। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঠিক পরিচয়কে স্বীকৃতি দিতে মিয়ানমার সরকারের অনিচ্ছা থেকে সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে। এই সমস্যা আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারি একটা ইস্যু। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি যেমন তেমনি বাংলাদেশ সমাজ, অর্থনীতি ও পরিবেশের প্রতি এটি এক বিরাট হুমকি। ২০১৭ সালে নতুন করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের পর বাংলাদেশ এক নিবিড় কূটনেতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক জনমত তৈরি করেও তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সমস্যা সমাধানে চীন, রাশিয়া ও ভারতের ভূমিকা আদৌ সহায়ক নয়। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা পালনে প্রভাবিত করতে পারার মধ্যে এই সমস্যা সমাধানের সাফল্য নির্ভর করবে।