রাত প্রায় সাড়ে তিনটা । মোটরসাইকেলে করে প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে গেলেন সাপ্তাহিক " মানুষের মন" পত্রিকার সম্পাদক জলিলুর রহমান । স্যারকে বের হতে দেখে প্রেসক্লাবের দারোয়ান সলিমুদ্দি গেট বন্ধ করার জন্য এগিয়ে গেল। এ সময় রাস্তায় কাউকে দেখাও যায় না। হঠাৎ হঠাৎ একটা দুইটা গাড়িকে ছুটে চলতে দেখা যায়। সলিমুদ্দি জানে জলিল স্যারের পর আর কেউ ক্লাব থেকে বের হয় না। এ জন্য স্যার বের হলেই সে গেটটা লাগায় । গেট লাগিয়ে পেছন ফিরে আবার তার বক্সের দিকে আগাতে গিয়ে কেমন জানি খচখচ করে উঠল মনটা।
আবার ফিরে তাকাতেই সবাইকে এক সঙ্গে দেখতে পেল সলিমুদ্দি।
৩, ৪ না ৬ জন। সচিবালয়ের সঙ্গে লাগোয়া পত্রিকার স্টলের সামনে ওরা কারা?
৬টি মোটরসাইকেল । তবে, চারজন পল্টনের দিকে মুখ করা আর দুজন জাতীয় ঈদ্গাঁর দিকে। জামাকাপড়ে সবাইকে ফিটফাটই মনে হচ্ছে। সলিমুদ্দির মনে হলো সবাই ভদ্রলোক । কিন্তু এত রাতে?
দরজা খুলে বের হবে?
কাজটা কি ঠিক হবে?
সলিমুদ্দি কী মনে করে গেটের তালা খুলে বের হয়ে এল । এখন বোঝা যাচ্ছে মোটরসাইকেলগুলো চালু আছে ।
সলিমুদ্দি জটলার দিকে হাঁটা শুরু করল । কিন্তু একী?
সলিমুদ্দি টের পেল বাইকগুলো চলতে শুরু করেছে। দুজন তার পাশ দিয়ে চলে গেল । দুজনেরই এক হাত উঁচু করে ধরা।
উল্টোদিকে তাকিয়ে দেখল বাকি চারজনও এক হাত উঁচিয়ে বাইক নিয়ে চলে গেল।
চিন্তিত মুখে গেট বন্ধ করে নিজের ডেরায় ফিরে গেল সলিমুদ্দি।
রাত ৩.৫০ মিনিট । দাসু মাঝি অপেক্ষা করছে ..................