মধ্যযুগে শত শত বছর ধরে ভারতবর্ষের নির্জন ও প্রায় দুর্গম জনপথে অসহায়, নিঃশঙ্ক পথচারী, অভিযাত্রী, ব্যবসায়ী, সরকারি রাজপুরুষ, এমনকি গৃহাভিমুখী সিপাহীদের ছোট ছোট দল রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যেত; প্রাণ দিত দেবী ভবানীর অন্ধভক্ত চরমপন্থী একটি সঙ্ঘবদ্ধ ভ্রাম্যমান গুপ্তহত্যাকারী সম্প্রদায়ের হাতে, সাধারণত যারা ঠগ বা ঠগী নামে পরিচিত ছিল। চাতুরী, লোমহর্ষক নৃশংস হত্যা ও লুণ্ঠনে এদের জুড়ি ছিল না। আজ অবিশ্বাস্য বলে মনে হতে পারে যে, ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনশত বছর পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪০,০০০ নিরীহ পথিক ঠগীদের সুকৌশল চক্রান্তে তাদের হাতে প্রাণ দিত। তাদের মারণাস্ত্র ছিল দৃশ্যত নির্দোষ এক ফালি হলুদ সাধারণ রুমাল, সেটাই ছিল তাদের মৃত্যুফাঁস। এই বইয়ের কাহিনী এক দুর্ধর্ষ ঠগ দলনেতা আমীর আলীকে ঘিরে। আমীর আলী তার ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ জীবনে ৭০০-এর বেশি নিরীহ পথিককে লুট করে হত্যা করেছিল। ১৮৩৭ সালে কর্নেল টেলর আমীর আলীর পৈশাচিক অপরাধের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে তাঁর Confessions of a Thug রচনা করেছিলেন। মূলত টেলরের Confessions of a Thug গ্রন্থের বিষয়বস্তু অবলম্বনে মৃত্যুদূত রচিত।