বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বাংলাভাষার সাহিত্যবিচারে। মাহমুদুল হক প্রথাগত অর্থে জনপ্রিয় কিংবা বহুলপ্রজ লেখক নন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে বাদ দিয়ে বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাস রচনা অসম্পূর্ণ হতে বাধ্য। কেননা বহু বিচিত্র মানবচরিত্রের তিনি এমন এক দক্ষ ও কুশলীস্রষ্টা, ভাষাশৈলীর স্বকীয়তায় এমন এক শিল্পী-_যা তাকে দিয়েছে। উচ্চাঙ্গের এক শক্তিধর লেখকের মর্যাদা। তার গল্প, উপন্যাস পাঠককে নিয়ে যায় জীবনালেখ্যের এমন এক নতুন পৃথিবীতে যা তার একান্ত নিজস্ব বলে শনাক্ত করতে পারেন যে-কোনাে পাঠক। মাহমুদুল হক লিখেছেন শিল্পী সুলভ আন্তপ্রেরণা। থেকেই, তাতে কিন্তু বাদ পড়েনি মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির কোনাে গুরুত্বপূর্ণ সমাজচিত্রই। দীর্ঘ প্রায় । চার দশকের সাহিত্যসাধনায় ছােটগল্প ও উপন্যাসসহ মাহমুদুল হকের গ্রন্থসংখ্যা মাত্র ১০। আবার লিখেছেনও অনেক দিনের ব্যবধানে, কিন্তু যখনই লিখেছেন, পাঠককে ফিরে আসতে হয়েছে। তার সেই চৌম্বক আকর্ষণের মধ্যে। যিনি প্রথম বারের মতাে মাহমুদুল হকের গদ্যের আঙিনায় প্রবেশ করেছেন তিনি এক অনাস্বাদিত বিস্ময়ের জগতেই প্রবেশ করেছেন এবং সে জগতে বার বার প্রবেশের এক দুর্দমনীয় চিরস্থায়ী নেশায় মজেছেন। গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলাে থেকে পাঠক আবারও সে স্বাদ পাবেন ।