ভগিনী নিবেদিতার সমগ্র জীবন এক আত্মনিবেদনের কাহিনী। স্বামী বিবেকানন্দের মানসকন্যা ও শিষ্যা নিবেদিতার মতো আর কোনও বিদেশি আমাদের এই দেশকে, দেশের মানুষকে, এর ধর্ম ও সংস্কৃতিকে এত গভীরভাবে ভালবাসতে পারেননি। আয়ারল্যান্ডের কন্যা মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল ভারতের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণ নিবেদন করে গুরুর দেওয়া নাম সার্থক করেছিলেন। এদেশের মানুষের দুঃখ ও স্বপ্নকে এমনভাবে তিনি আপন করে নিয়েছিলেন, যা এখনও অবিশ্বাস্য। স্বামীজি তাঁকে আশীর্বাদ করে বলেছিলেন: ‘বি দাউ টু ইন্ডিয়া’স ফিউচার সন/দি মিসট্রেস, সারভেন্ট, ফ্রেন্ড ইন ওয়ান...’। তাঁর জীবনে এই আশীর্বাদ অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়ে উঠেছিল। ভারতের জন্য তাঁর আত্মনিবেদন এতটাই আন্তরিক, পরিপূর্ণ ও সর্বাঙ্গীণ যে, তার মূল্যায়ন এখনও আমরা করে উঠতে পারিনি। এই মহীয়সী নারীর নাতিদীর্ঘ জীবন একটি সুলিখিত কাব্যের মতো, একটি মহৎ সঙ্গীতের মতো, একটি পবিত্র উপাসনার মতো। রবীন্দ্রনাথ তাঁর মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছিলেন এক চিরন্তনী লোকমাতাকে। শ্বেতপাথরে গড়া তপস্বিনী মূর্তির মতো অবনীন্দ্রনাথের সামনে প্রতিভাত হয়েছিলেন তিনি। নিবেদিতার বজ্ৰদ্যুতিময় জীবন ও সাধনা নিয়ে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থ রচিত হয়েছে। ‘মহীয়সী নিবেদিতা’ সেই গ্রন্থসম্পদে আর একটি মূল্যবান সংযোজন।