বঙ্গবন্ধুর বহুমাত্রিক ভাবনাবিশ্ব বইটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিচিত সাধারণ জীবন-বিবরণের কোনো সংকলন নয়। বরং তাঁর ভাবনাবিশে^র অজানা-অচেনা দিকগুলোকে তুলে ধরা এবং তার বিশ্লেষণই এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। সমাজ-রাজনীতি-রাষ্ট্র বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর চিন্তার কয়েকটি দিক নিয়ে সবিস্তার ব্যাখ্যা-বিবেচনা এ বইয়ে মিলবে। রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামপর্বে এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রবিনির্মাণের জন্য তিনি বহু বিষয় নিয়ে ভেবেছিলেন, বহু ভাবনাকে বাস্তব করে তুলতে চেয়েছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তা ও রাষ্ট্রদর্শনের প্রতিফলন তাই দেখা যায় সে সময়ের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে, নীতিনির্ধারণে। সে রকম এগারোটি প্রসঙ্গ নিয়েই লিখেছেন এগারোজন কৃতী গবেষক। তাঁরা বিদ্যায়তনিক পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে মান্যসূত্র ঘেঁটে বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ও দর্শনের দিকে ফিরে তাকিয়েছেন, প্রয়োজনে পুনর্বিচার-পুনর্বিবেচনা করতেও পিছপা হননি। বইটিতে বাংলাদেশের সংবিধানকে ঘিরে বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ও পরিকল্পনার পূর্বাপর বিশ্লেষণ যেমন আছে; তেমনি আছে তাঁর কৃষি সংস্কারের ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গি, বাকশাল গঠনের বৈপ্লবিক উদ্যোগ, সমন্বয়বাদী পররাষ্ট্রনীতি ও শিক্ষাসংক্রান্ত দূরদর্শী ভাবনা নিয়ে আলোকপাত। চারটি আলাদা আলাদা প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সাহিত্যবোধ, লেখকসত্তা, সংস্কৃতিপ্রিয়তা এবং চারুশিল্পের প্রতি তাঁর অনুরাগ। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রগঠনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের কোন ভ‚মিকায় দেখতে চেয়েছিলেন তা নিয়ে রয়েছে একটি দীর্ঘ অভিনব প্রবন্ধ। তাঁর যোগাযোগদর্শনকে আধুনিক গণযোগাযোগতত্তে¡র আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে আরেকটি লেখায়।