এক শোকাবহ ঘটনায় আবদ্ধ দুই ভাই। অতীতের স্মৃতিতাড়িত মনস্বিনী এক মহিলা। বিদ্রোহে বিক্ষত একটি দেশ। মৃত্যুর পরেও জীবিত এক প্রেম। আমেরিকা ও ভারতের পটভূমিকায় একটি অবিস্মরণীয় নতুন উপন্যাস, যা আমাদের সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল কাহিনিকারের ব্যাপ্তি ও পরিসর বিস্তৃততর করেছে: দ্য নেমসেক ও আনঅ্যাকাস্টমড আর্থ-এর বহুপঠিত লেখিকা।বয়সের পার্থক্য মাত্র পনেরো মাস। সুভাষ ও উদয়ন হরিহর আত্মা দুই ভাই। কলকাতার যে পাড়ায় তাদের বেড়ে ওঠা, সেখানে একজনকে অন্যজন বলে লোকে ভুল করে। কিন্তু তারা বিপরীতমুখীও বটে, তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনেকাংশেই আলাদা। তাদের ভবিষ্যতও দু’টি আলাদা পথে চলে। ১৯৬০৷ বর্ণময় ও আবেগতাড়িত উদয়ন নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে যার উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক অসাম্য ও দারিদ্র নির্মূল করা। নিজের বিশ্বাসের জন্য সে সব সমর্পণ করতে ও সবরকম ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। কর্তব্যপরায়ণ সুভাষ ভাইয়ের এই রাজনৈতিক আবেগের অংশীদার নয়। সে বাড়ি ছেড়ে আমেরিকার নিভৃত এক উপকূলবর্তী কোণে বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে জীবন অতিবাহিত করে।কিন্তু যখন সুভাষ শোনে, তাদের পৈতৃক বাড়ির বাইরে নাবাল জমিতে তার ভাইয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, সে চূর্ণবিচূর্ণ পরিবারের টুকরোগুলো একত্র করতে ও উদয়নের রেখে যাওয়া ক্ষতগুলোকে সারিয়ে তোলার প্রচেষ্টায় দেশে ফেরে, অনুভব করে যে কিছু গভীর ক্ষত রয়ে গিয়েছে উদয়নের বিধবা স্ত্রীর হৃদয়েও। দক্ষ, রুদ্ধশ্বাস, তীব্রভাবে অন্তরঙ্গ এই উপন্যাস মহৎ সৌন্দর্য ও জটিল ঘাতপ্রতিঘাতপূর্ণ আবেগের কাহিনি; এক চিত্তাকর্ষক পারিবারিক গাথা; ইতিহাসে প্রোথিত একটি গল্প যা একাধিক প্রজন্ম ও দুই মহাদেশের ভূগোল, উভয়কেই বেঁধে রাখে মসৃণ প্রামাণ্যতায়। নাবাল জমি ঝুম্পা লাহিড়ীর সৃষ্টিশক্তির উচ্চতার পরিচায়ক।