কয়েক বছরের ব্যবধানে ভারতের পুণ্য-অঙ্গনে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনজন মহামানব। রবীন্দ্রনাথ, মহাত্মা গান্ধী, শ্রীঅরবিন্দ। তিনজনই তাঁদের অসামান্য অবদানে ভারতকে শুধু নানা ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করেননি, চিনিয়ে দিয়ে গেছেন ভারত-আত্মাকে, তার স্বকীয় সত্তাকে। ভারত-আত্মার মূল উপাদান তিনটি: সত্য, শিব ও সুন্দর। উপনিষদের ভাষায় ‘সত্যম্ জ্ঞানম্ অনন্তম্’। জীবনে চলার জন্য মানুষের একমাত্র অবলম্বন হল সত্য। বেদে সত্যের এই গতির নাম দেওয়া হয়েছে ঋত। পরবর্তীকালে সেই ঋত-সত্যেরই নাম দেওয়া হয়েছে ধর্ম। ধর্মকে অবলম্বন করে আসতে হয় জ্ঞানে বা ধ্যানে এবং শেষে ধ্যান-জ্ঞানই এনে দেয় উপলব্ধির আনন্দ। সেই আনন্দের বাণী ঝঙ্কৃত হয়েছে কবিকণ্ঠে, যিনি কালানুক্রমে অগ্রজাত। মধ্যে যিনি আছেন তিনি সত্যরূপ ধর্ম, সত্যাগ্রহরূপ কর্মের দ্বারা সেই আনন্দ-সন্ধানের পথ দেখিয়েছেন। আর সব শেষে যাঁর আবির্ভাব তিনি প্রবক্তা, জীবকে শিবে পরিণত করার দুশ্চর তপস্যায় নিমগ্ন। একজন মহাকবি, একজন মহাকর্মী, একজন মহাযোগী। একজন আনন্দের উদ্গাতা, একজন সত্যের দিশারি, আর একজন শিবের সন্ধানী। এঁরা তিনজনই ভারত-পথিক, ভারতের স্বরূপ-আবিষ্কারে, পুনরুদ্ধারে, পরাধীনতার গ্লানিমোচনে নিবেদিতপ্রাণ। পথ স্বতন্ত্র, কিন্তু লক্ষ্য এক। এই তিন মহামানবের ভাবনাসাগরের ত্রিবেণীসঙ্গমে দাঁড়িয়ে লেখক রচনা করেছেন এই অসামান্য গ্রন্থ।