যিনি এই দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন, তিনি ভালো জানেন যে, কেমন চলছে
এই বিশ্বসংসার? অতীতে কেমন চলেছিল এবং ভবিষ্যতে কেমন চলবে, এই তথ্যও পরিপূর্ণরূপে তাঁরই কাছে। এসব প্রশ্নের কিছু মৌলিক ও সংক্ষিপ্ত উত্তর তিনি তাঁর কিতাব কুরআন কারীমে বর্ণনা করেছেন। কিছু বর্ণনার ভার তাঁর মনোনীত বান্দা তথা নবীদের উপর ন্যস্ত করেছেন। এই সুবাদে আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ এসব বিষয়ে অপেক্ষাকৃত অধিক বিশদ বর্ণনা পেশ করেছেন, যেগুলো হাদীসগ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
দুনিয়া যত বুড়িয়ে যাবে, ততই এর নিয়মনীতি বিঘ্নিত হতে থাকবে। পরিভাষায় এই বিবর্তনকে ‘ফিতনাহ’ বহুবচনে ‘ফিতান’ বলা হয়ে থাকে। তাসবীহের সূতা ছিঁড়ে দিলে যেভাবে তার দানাগুলো একের পর এক পড়তে থাকে, দুনিয়ার বার্ধক্যের সময় ফিতানের আবির্ভাবও সেভাবেই সংঘটিত হতে থাকবে। রসূলুল্লাহ ﷺ-এর ভাষ্য এই দাবির উপরই সাক্ষ্য প্রদান করে।
ইসলামের মহামনীষীগণ অত্যন্ত চৌকসভাবে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর এজাতীয় ভাষ্যের সংকলন উম্মাহর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। যাঁরা এই গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন, তাঁদের তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ। যাবতীয় নাম সন্বিবেশিত করতে গেলে একটি ছোটখাট পুস্তিকায় পরিণত হবে। তবে তাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে কাসীর’র নাম খুব গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করার মত। তিনি তাঁর ইতিহাসগ্রন্থ ‘আল-বেদায়াহ ওয়ান-নেহায়াহ’র ‘ফিতান’ অধ্যায়ে এই প্রসঙ্গে বর্ণিত প্রায় যাবতীয় রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে অনেক আলেমে দীন এই অংশটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিমার্জিত করে স্বতন্ত্র পুস্তকহিসাবে প্রকাশ করেছেন।