একটি উৎকৃষ্ট মানের মননশীল গ্রন্থ।আমাদের দেশে গণিতের যে সমস্ত মননশীল বই-পত্র রয়েছে তা পাঠ করলে শুধু গণিতের সাধারণ স্তরেই পৌঁছা সম্ভব।কিন্তু আলোচ্য গ্রন্থটি পাঠ করলে পাঠকরা গণিতের দার্শনিক স্তরে পৌঁছতে পারবে।গ্রন্থটি বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার সর্বোৎকৃষ্ট হাতিয়ার।গ্রন্থটি পড়লে বোঝা যাবে কাল্পনিক ও জটিল সংখ্যা আসলে কী ? বইটিতে রয়েছে মোট ২৩ টি চিত্র যার মধ্যে আবার বেশ কিছু ব্যতিক্রমধর্মী।কাল্পনিক ও জটিল সংখ্যার বিভিন্ন উপপাদ্যকে গাণিতিক ও জ্যামিতিকভাবে প্রমাণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন উদাহরণ দ্বারা ইহাদের সত্যতাও প্রমাণ করে দেখানো হয়েছে।কাল্পনিক ও জটিল সংখ্যার তত্ত্বগুলোকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ইহার ভেতরকার সৌন্দর্য ও রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।গ্রন্থটিতে এমন কিছু চমকপ্রদ বিষয়ের চিত্রভিত্তিক বিশ্লেষণ দেখানো হয়েছে যা এই বিষয়ের উপর রচিত বাংলা বা ইংরেজি ভাষার কোন বইয়ে নেই।সেই হিসেবে এটি একটি মৌলিক গবেষণা।এর মধ্যে অনেক রহস্যময় জিনিস রয়েছে যা গ্রন্থটি পাঠ করলেই পাঠক বুঝতে পারবে। যারা কেবল পরীক্ষা ঠেকাবার উদ্দেশ্যে শুধুই সিলেবাস ধরে গণিত করছেন, গণিতে কোনরূপ আনন্দ পাচ্ছেন না-তাদের জন্য এটি একটি সুখপাঠ্য এবং রহস্য উদঘাটনকারী বিনোদনমূলক বই। ভবিষ্যতে যারা বিজ্ঞানী, চিন্তা বিদ ও প্রকৌশলী হতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই।বইটি পাঠ করার প্রথম শর্ত হচ্ছে ধৈর্য শক্তি।বইটি পাঠ করতে হবে ধীরে-ধীরে সময় নিয়ে।বইটির বেশির ভাগ অংশের পঠন-পাঠন,আলোচনা-সমালোচনা সম্পূর্ণ যুক্তি নির্ভর।বইটির সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে এর বিষয়-বৈচিত্র্যের ধারাবাহিকতা।বইটি উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সাহায্যকারী বই (ঐধহফনড়ড়শ) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।গণিত,পদার্থ,রসায়ন,পরিসংখ্যান ও প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এটি রেফারেন্স বই হিসেবে মর্যাদা পেতে পারে।বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, দার্শনিক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের অধ্যাপক, লেখক, গবেষক ও অনুসন্ধিৎসুদের বিশেষ উপকারে আসতে পারে।বইটি পাঠকের চিন্তার জগতকে নাড়া দেবে, মস্তিষ্কের নিউরণে অনুরণন ঘটাবে,মেধাকে তীক্ষè ও শাণিত করবে, মনকে করবে প্রফুল্ল।সর্বোপরি গণিতরস পিপাসুরা তাদের তৃষ্ণা মেটাতে পারবে। বইটি পাঠ করার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা:গণিত সহ উচ্চমাধ্যমিক।