দুর্গাপুজো শহর কলকাতার একান্ত নিজস্ব উৎসব। এই উৎসবের গোড়া থেকেই সামাজিক, সাংস্কৃতিক একটা ভাবনা জুড়ে আছে। এই কারণে এর মধ্যে ধর্মের গোঁড়ামি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে যাঁরাই কলকাতায় বাস করেন তাঁরাই এর মানবিক আবেদনে সাড়া দেন, মেতে ওঠেন উৎসবে। সীমাবদ্ধতার উপরে ওঠার প্রয়াস, কলাকৌশলের বিরল অভিব্যক্তি, শিল্পভাবনা, কল্পনার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনার আকর কলকাতার পুজো। কীসের জন্য এমন পরিবর্তন? কোথা থেকেই বা আসে এই সব সূত্র? কারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত—কেমনটাই বা এই প্রক্রিয়ার ধারা?—এরকম নানা প্রশ্ন বারংবার মনে আসে।দুর্গাপুজোই কি নগর কলকাতার সেই উপলক্ষ, যেখানে এই শহরের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবচেতন ভাবনাগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়? হয়তো বা এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কোনও যোগ থেকে থাকবে এমন এক অভিব্যক্তির বিবর্তনে। এই গ্রন্থে দুর্গাপুজোর নান্দনিকতা, বিকল্প ভাবনাচিন্তা ও ডিজাইনের সঙ্গে এই শহরের সমাজচেতনা ও তার প্রতিক্রিয়ার একটা সম্পর্ক বা যোগসূত্র নির্ধারণ করেছেন লেখক। এই বিশাল উৎসবকে খুব কাছ থেকে দেখার এবং সেই সঙ্গে বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্প সম্ভাবনার সাম্প্রতিক প্রয়াসের অনুসন্ধান এই গ্রন্থের মূল উপজীব্য।