১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ জন্ম সাক্ষী হয়ে আছে বিপুল রক্তক্ষয় এবং যৌন সহিংসতার। বিস্তর যৌন সহিংসতা, যৌন দাসত্ব এবং অন্যদিকে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় না আনার বিষয়গুলো এখন সুবিদিত। এই বইতে স্থান পাওয়াপ্রবন্ধগুলো ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে বিচারহীনতার গতিশীল প্রকৃতিকে তুলে ধরেছে। আর সেটা করতে গিয়ে লেখকরা কেবল বিচারহীনতার অনুকূল পরিস্থিতি সম্পর্কেই আলোচনা করেননি, বরং যেসব উপাদান সেগুলোকে উস্কে দেয় তার বিবরণও দিয়েছেন। তাঁরা জানার চেষ্টা করেছেন এগুলো কীভাবে এত গভীরে প্রোথিত হল অথবা মানবিক, বৈশ্বিক এবং জাতীয় পর্যায়ে এর জন্য কী ধরনের মূল্য দিতে হয়েছে? বাংলাদেশে বিদ্যমান পিতৃতন্ত্রিক সমাজকাঠামোর মোকাবেলায় নারী আন্দোলন ও নারীবাদী চর্চা কীভাবে যৌন সহিংসতার শিকার ও তাঁদের স্বজনদের জন্য স্বীকৃতি আদায় ও অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি তুলেছে সে সম্পর্কে এই বইয়ের সব লেখকই অনুসন্ধান করেছেন। এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তারা নারীবাদী গোষ্ঠীদের নানা প্রয়াসের সাক্ষী হয়েছেন এবং সেগুলোকে উপযুক্ত মনযোগ দিয়েছেন, কেননা এই প্রয়াসটুকু না থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের স্বজনদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।