আলোর রোশনাই আর তিলককামোদ রাগে সানাইয়ের সুরে যখন সারা কলকাতা শারদীয়া উৎসবে মেতে উঠেছে, তখনই এক আতঙ্ক পৃথা আর শুভ্রকে উড়িয়ে নিয়ে যায় মুম্বইতে। শহরের ব্যস্ত হাসপাতালে যাজকপ্রতিম ডা. ওয়াগ ও তাঁর সহকর্মীরা মারণ রোগের চিকিৎসায় মগ্ন। কর্কট আগমনের সংবাদে ভয় পায় না পৃথা। চারপাশের ক্যানসার-আক্রান্ত মানুষদের দেখে বলে ওঠে, ‘আমি তোমাদেরই লোক’। এই অসুখ জাতি-ধর্মের গণ্ডি পার করে সকলের একটাই পরিচয় তুলে ধরে। একসূত্রে বাঁধা পড়ে রাজশাহীর হাসিনা আর রাজস্থানের ব্যবসায়ী-পরিবারের গৃহবধূ। রোশনি অথবা মুম্বইয়ের ক্যাবারে নর্তকী সিম্মি। অসুরসংহারে কোথাও দেবীরা এক- বয়স্কা মঞ্জুদি, পরিণত অনন্যা বা অল্পবয়সি নিশা। আবার যুদ্ধটা নিজস্ব বলেই কত তফাত সদ্যবিবাহিতা শেলী আর টিনার, অনুভূতিতে কত পৃথক সোনালী ও সুরমার পরিবার। এরই মাঝে দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু জীবনের রসদ আহরণ করে, রচিত হয় এক উত্তরণ, এক অধরা মাধুরীর অনন্যসাধারণ সাফল্য আর প্রথিতযশা শিল্পী নির্বাণ সেনের শিকড়ের সন্ধান। রচিত হয় কখনও না- আঁকতে পারা এক ছবি, এক জীবনবোধ যাকে কোনও আঘাত স্পর্শ করতে পারে না। ইংল্যান্ডের লেক ডিস্ট্রিক্ট থেকে রাজশাহীর মাঠপুকুর— সব জায়গার নানা চরিত্র একটি যুদ্ধের অনেক আঙ্গিকের সন্ধান দেয়। জন্ম দেয় এক চিরায়ত বোধের। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে রচিত দীপান্বিতার উপন্যাস অনঘ। এক মৃত্যুঞ্জয়ী অনুভব যেন প্রতিমুহূর্তে বলতে চায়, জীবন অবিনাশী।