আমি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত এবং সবকিছুকে ‘ডিজিটাল করতে চাই বলে আমার বদনাম আছে! তারপরও এ বইতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পার্থক্যটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছি। বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তির দাস নয় বরং প্রভু হতে উৎসাহিত করাটাই লক্ষ্য। কেউ হয়তাে বলতে পারে, আমি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ঐচ্ছিক কাজ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারতাম; যার পক্ষে সম্ভব সে করত আর যার হাতের কাছে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযােগ নেই সে ওটুকু বাদ দিয়ে যেত। আমার উত্তর হতাে এরকম : যদি সেরকম করি তাহলে প্রযুক্তির সুবিধাবঞ্চিত পাঠকের মনে অলিখিতভাবে এই ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া হয় যে বিজ্ঞানের মূলনীতিগুলাে শিখতে তথ্যপ্রযুক্তি লাগবেই লাগবে আর তার যেহেতু এই সুযােগ নেই সেহেতু তার পক্ষে বিজ্ঞান শেখা খুব কঠিন একটা ব্যাপার। আর যে পাঠকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা আছে তার হয়তাে বইটি পড়তে গিয়ে হাত নােংরা' করার দরকারই পড়বে না। কয়েকটা ক্লিক করেই সব প্রােগ্রাম চালিয়ে ফেলবে! অথচ বিজ্ঞানের একেবারে মৌলিক জিনিসগুলাে হাতেকলমে শিখতে হলে হাত নােংরা করার বিকল্প নেই।