উৎস থেকে মোহনায় ছুটে চলে নদী। মানবজীবন তেমনই। ফেলে-আসা পথের দু’পাশে, প্রতিটি অর্থপূর্ণ বাঁকে মুখর হয়ে থাকে অমূল্য সব স্মৃতি। মহাজনের স্মৃতিকথা শুধু অতীত ইতিহাস নয়, এক অপূর্ব ভাবসম্পদও বটে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সুযোগ্য পুত্র দিলীপকুমার রায়ের ‘স্মৃতিচারণ’-এর পাতায় পাতায় রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল, অতুলপ্রসাদ, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র, শ্রীঅরবিন্দ, গিরিশচন্দ্র, শরৎচন্দ্রের মতো মহামানবেরা কথা বলেছেন অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে। ঊনবিংশ শতকের ভারতীয় মনীষার অমৃতের স্বাদ পাঠককে উপহার দিয়েছেন দিলীপকুমার। বইটি ব্যতিক্রমী এখানেই যে, স্মৃতি-পরিক্রমার পাশাপাশি ভাস্বর হয়ে আছে এক সাধকের সুগভীর আত্মজিজ্ঞাসাও। পাঠ-প্রতিক্রিয়ায় রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর জানিয়েছিলেন, “সরলভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে লিখতে গিয়ে লেখা থেকে তোমার আত্মপরিচয় কত স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তা তুমি বোধহয় নিজেও জানো না।”‘স্মৃতিচারণ’ গ্রন্থে আত্মানুসন্ধানী দিলীপকুমার ক্রম-প্রকাশিত হয়েছেন মহাজীবনের আশ্চর্য গন্ধে-ভরা সময়ের ভেতর।