আল্লাহ্ পৃথিবীতে ইসলাম পাঠিয়েছেন বহুবার অসংখ্য নবী-রসুলের মাধ্যমে। কোরান বলছে, সেই কেতাবের অনুসারীরা প্রত্যেকবারই সেগুলােকে নষ্ট করেছে। সেজন্যই দুনিয়ায় নবীজীকে আসতে হয়েছে, কোরানকে আসতে হয়েছে সুস্পষ্ট মর্মবাণী নিয়েঃ (১) কোরান শুধুমাত্র উপদেশের কেতাবআনা’ম ৯০, (২) আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক ব্যতীত অন্য কোন কাজে পয়গম্বর পাঠান না-আনাম ৪৮, এবং (৩) ইসলামে জোরজবরদস্তি নাই-সুরা বাকারা ২৫৬। এগুলাে বিচ্ছিন্ন আয়াত নয়, এগুলাে অজস্র আয়াত দ্বারা সমর্থিত কোরাণের মর্মবাণী। আমরা পুরুষেরা নারীর জন্য যুদ্ধ করি, ধ্বংস করি, খুন করি, আবার আত্মহত্যাও করি। নারীর নামে আমরা তাজমহল বানাই, যক্ষ হয়ে মেঘদূত পাঠাই। নারীর বিরহে গান-গজল-কবিতায় সারারাত জেগে থাকি, ওদের খোপায় পরাই তারার ফুল। কিন্তু নারীকে সংসারে-সমাজে-আইনে-বিধানে-সংগঠনে সমান অধিকার দিই না। নারী মানুষকে জন্ম দেয়, জন্ম দেয় নবী-রসুলকে, জন্ম দিতে মরেও যায়। কখনাে, জীবনের বেশির ভাগ বােঝা বয় কিন্তু তার প্রতিদান তাে দূরের কথা, স্বীকৃতিও পায় না। সমাজ, সংস্কৃতি, পােশাক, খাদ্য, সাহিত্য, রাষ্ট্র, আইন আর ধর্মকে আমরা চিরকাল খুব চালাকির সাথে কাজে লাগিয়েছি নারী ও তার সম্পত্তিকে কজায় রাখবার জন্য। আমরা বুঝিনি, জীবনটা আসলে নারী-পুরুষ মিলে মধুর এক দ্বৈত-সঙ্গীত। যে হতে পারতাে গরীয়সী জননী আর স্নেহময়ী ভগিনী তাকে ধর্মের নামে দুমড়ে মুচড়ে পায়ের নীচে পিষে পিষে আজ আমরা পুরুষেরা দানবের মতাে একা হয়ে গেছি। এ-বইতে দেখানাে হলাে কিভাবে ইসলামের অপব্যবহার করে কোরান-বিরােধী, নারী-বিরােধী, ও মানবতা-বিরােধী এক ভয়ঙ্কর আত্মঘাতী অপদর্শন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।