জীবনের দীর্ঘতম বছরটি সম্পর্কে লিখতে পেরেছি বলে আল্লাহতায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলাদেশের ৭২ জন অফিসার নিঃসন্দেহে আমার চেয়েও সাহসী, জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। বাঙালি সৈনিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সাহসের কারণেই আমরা মাথা উঁচু করে বসনিয়া মিশন (UNPROFOR) শেষ করতে পেরেছিলাম। নিজের ও বিহাচ ক্যাম্পের ঘটনাই এখানে আছে। অন্যান্য ক্যাম্পের দুঃসাহসী ঘটনাগুলাে এখানে নেই বলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। যৌবনে জীবন-মৃত্যু যেখানে পায়ের ভৃত্য করেছিলাম বিহাচের সেই রােমাঞ্চকর দিনগুলাে ২৭ বছর পর কতটুকু উঠিয়ে আনতে পেরেছি তা পাঠকের বিবেচনায় রইলাে। ক্রোয়েশীয়ার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গাড়িসহ প্রবেশের জন্য পূর্বাহ্নে অনুমতি নিতে হতাে। তবে বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ানের গাড়ি ন্যাটো সৈনিকরা কোন প্রশ্ন ছাড়াই ঢুকতে দিত, কারণ এই গাড়িটি বিহাচ থেকে এসেছে। বিহাচ মানেই যুদ্ধ থেকে আসা এবং আবার ফিরে যাবে যুদ্ধে। আর সেজন্যই বিহাচের সাহসী যােদ্ধাদের অগ্রাধিকার যাবার উপরে। সারায়েভাে থেকে আসা ব্রিটিশদেরও এই সম্মান দেয়া হতাে না। সেই বিহাচ ক্যাম্পের অধিনায়ক হওয়ার বিরল গৌরব আমাকে বইটি লিখতে উৎসাহিত করেছে।