প্রথম খণ্ড: ইতিহাস - সমাজ - রাজনীতি
রণজিৎ গুহ এমন একজন ইতিহাসবিদ, যাঁকে শুধু ইতিহাসবিদ বললে কম বলা হয়। বিশ্ববরেণ্য এক তাত্ত্বিক তিনি। তাঁর ইতিহাসের লেখাপত্র আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের নানা শাখার পড়ুয়াদের অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠেছে অনেক দিন। প্রথমে ভারতের ঔপনিবেশিক ইতিহাস, ও পরে উত্তর-ঔপনিবেশিক ইতিহাস চর্চায় সাবঅল্টার্ন স্টাডিজ বা নিম্নবর্গের পাঠ নামক যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ধারাটির কথা আমরা জানি, তার উদ্ভাবক তিনিই। রণজিৎ গুহ-র নেতৃত্বে, মার্ক্সীয় চিন্তার দ্বারা গভীর ভাবে প্রভাবিত, কিন্তু এক ভিন্ন তাত্ত্বিকতায় উন্নীত এই ইতিহাস-ধারা আমাদের এতদিনকার ইতিহাসের চাপা পড়ে যাওয়া কণ্ঠগুলিকে তুলে আনতে চেষ্টা করে। এই কারণে, তাঁর প্রথম বই প্রকাশ ১৯৬৩ সালে ঘটলেও ১৯৮২ সালে সাবঅল্টার্ন স্টাডিজ-এর প্রথম খণ্ড প্রকাশই রণজিৎ গুহ-র খ্যাতির প্রধান ভিত্তি। পরবর্তী জীবনে বাংলায় তিনি বেশ কিছু মৌলিক ইতিহাস রচনা করেছেন, যেগুলির ইংরেজি অনুবাদ এখনও পর্যন্ত হয়নি। তাঁর সমগ্র জীবনব্যাপী ইতিহাসের সমস্ত রচনা এই প্রথম একটি খণ্ডে সংকলিত হল।
দ্বিতীয় খণ্ড: সাহিত্য
প্রধানত ইতিহাসবিদ ও সমাজতাত্ত্বিক হিসেবেই রণজিৎ গুহ-র বিশ্বব্যাপী খ্যাতি। কিন্তু এর বাইরে সাহিত্য নিয়েও অনেক লিখেছেন তিনি, লেখক-জীবনের গোড়া থেকেই। প্রথম দিকের সেই সব লেখার পর আবার পুরোদস্তুর সাহিত্যচর্চায় তিনি মন দেন ২০০৯ সাল থেকে, যখন মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে প্রকাশিত হয় তাঁর দুটি সাহিত্য-আলোচনার বই। ইতিহাস ও তত্ত্বের মধ্যে তাঁর চিন্তা-উদ্ভাবনের যে অনায়াস প্রয়োগ আমরা দেখেছি, সাহিত্যপাঠে ঠিক তেমনই মনীষার পরিচয় পাওয়া গেল। গতানুগতিক সাহিত্য-জগতের বাইরে তাঁর বিচরণ, কিন্তু বাংলার সাহিত্য-জগতের নানা পরিচিত লেখক ও লেখাকে তিনি তাঁর আলোচনায় নিয়ে এলেন। ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রকৃতির সঙ্গে আত্ম-র সম্পর্ক কী ভাবে আবর্তিত হয়, রণজিৎ গুহ-র সাহিত্য-আলোচনার প্রধান সন্ধান হয়ে উঠল সেটাই। 'বুদ্ধদেব ও সুধীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্য-আলোচনায় দেশ-বিদেশ অতীত-নিকট দাপিয়ে এমন স্বচ্ছন্দ বিচরণ ঘটেনি' - বলেছেন অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরী। রণজিৎ গুহ-র সমগ্র জীবনের সাহিত্য-বিষয়ক সমস্ত লেখার সংকলন এই খণ্ডে, প্রথম বার।